৭ই মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নতুন করে স্বপ্ন দেখছে কয়রাবাসী
দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে কয়রাবাসী
207 বার পঠিত

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: ঘুর্ণিঝড় আইলা, আম্পান, ইয়াসের দুঃসহ স্মৃতি মনে করে এখনও আঁতকে ওঠেন খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলার নলপাড়া গ্রামের শতবর্ষী দুর্গাপদ মুন্ডা। তিনি জানান, দুর্যোগের সময় নদীর নোনাজলে তলিয়ে যায় তার বসতবাড়ি, শৌচাগার ও পাশের চলাচলের রা¯ত্মা। ডুবে যাওয়া রা¯ত্মা দিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাধ্যহয়ে ঘরের মাচায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।

শৌচাগারের কাজ সারতে নদীর ভাটির অপেক্ষা করতে হতো তাদের। দুর্যোগে বাঁধ ভেঙে নদীর লোনাপানিতে টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় নৌকায় করে দূরের উঁচু কোনো টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে হতো বলে জানান একই গ্রামের নিরাপদ মুন্ডা।


তবে দুর্যোগের সময় কয়রার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বেসরকারি সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস) কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশী ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে প্রায় ১০ কিলোমিটার রা¯ত্মা, ১২৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন, ২৭টি উঁচু টয়লেট নির্মাণ এবং ১৪টি সাইক্লোন শেল্টারে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ট্যাংক স্থাপন করেছে। এতে কিছুটা হলেও দুর্যোগের নোনাজলের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন কয়রার মানুষেরা।


উপজেলার নলপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, যেভাবে উঁচু করে রা¯ত্মা, টিউবওয়েল ও শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে তাতে কোনো দুর্যোগ হলে অšত্মত সেখানকার বাসিন্দাদের টয়লেটের জন্যে কষ্ট করে ভাটির অপেক্ষা করতে হবে না।


সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শেখ সোহরাব হোসেন বললেন, ওই বেসরকারি সংস্থা মাত্র দু’বছরে এ সব স্থাপনা ও নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। এভাবে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো এগিয়ে আসলে দুর্যোগ প্রবণ উপকূলীয় কয়রার বাসিন্দারা ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবেন।


কয়রা গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, তাদের বাড়ির পাশের রা¯ত্মাটি আাগে অনেক নিচু ছিল। দুর্যোগের সময় বাড়িতে পানি উঠে যাওয়ার আগে রা¯ত্মাটি ডুবে যেতো। পরিবারের সদস্যদের সাথে সাথে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়তে হতো। এখন পাশের রা¯ত্মাটি উঁচু করায় দুর্যোগের সময় অšত্মত রা¯ত্মার উপরও থাকা যাবে। গবাদি পশুগুলোও রাখা যাবে।


মদিনাবাদ দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট শাহাদাত হোসেন বলেন, তার মাদ্রাসায় উঁচু টয়লেট স্থাপন, উঁচু করে নলকূপ স্থাপন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে জাগ্রত যুব সংঘ। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উপকৃত হচ্ছেন। ঘুর্ণিঝড় আইলার পর কয়রার উত্তর বেদকাশী ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন প্রায় সাড়ে তিন বছর নদীর লোনা পানিতে পস্নাবিত ছিল। সেখানকার বাসিন্দারা জানান, পস্নাবনের সময় রা¯ত্মার উপর ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করতে হতো তাদের। তখন টয়লেটগুলো তলিয়ে যায়।

খোলা জায়গায় টয়লেট করতে বাধ্য হতো মানুষ। মহিলাদের শৌচাগারের কাজ সারতে রাতের জন্যে অপেক্ষা করতে হতো। এখন টয়লেট উঁচু করায় দুর্যোগে তাদের সে সমস্যায় পড়তে হবেনা।


রা¯ত্মা নির্মাণ, টয়লেট উঁচুকরণ, সুপেয় পানির জন্যে টিউবওয়েল স্থাপন এমনকি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ সম্পর্কে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরম্নল ইসলাম কোম্পানী বলেন, সবগুলো কাজের মান নিয়ে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। রা¯ত্মার স্থায়িত্বের জন্য দু’পাশে গাছও লাগানো হয়েছে। এখন এর ওপর ইটের সলিং দেওয়া হলে রা¯ত্মাগুলো আরও টেকসই হবে। তিনি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে আরও কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করার আহবান জানান জেজেএস’র প্রতি।


জাগ্রত যুব সংঘের নির্বাহী পরিচালক এটিএম জাকির হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নারী ও শিশুদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিশেষ করে টয়লেট ব্যবস্থা নিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতা রয়েছে কয়রার মানুষের। আবার রা¯ত্মা না থাকায় দুর্যোগের সময় অনেকে ইচ্ছা থাকলেও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেন না। এসব কারণে কিছু রা¯ত্মা, টয়লেট ও টিউবওয়েল উঁচু করা হয়েছে।


জেজেএস‘র সমন্বয়ক আব্দুল মালেক বলেন, আমরা কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশী ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে প্রায় ১০ কিলোমিটার রা¯ত্মা সংস্কার করেছি। এ জন্যে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৮২ টাকা। এছাড়া তিন ইউনিয়নে ১২৫টি টিউবওয়েল, ২৭টি উঁচু টয়লেট ও ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ট্যাংকি ও বেসিন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার রা¯ত্মার পাশে ৪ হাজার ৫১ টি নিম, মেহগনি ও শিরিস গাছ লাগানো হয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০১৭১১-১৮২০২১, ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
পুরাতন খবর
FriSatSunMonTueWedThu
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram