৩১শে জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
ডিজিটাল যশোর এনালগে বন্দি
ডিজিটাল যশোর এনালগে বন্দি


তহীদ মনি : ওয়েবসাইট আপডেটের নামে কর্মকর্তাদের তালিকা বদল, দৈনন্দিন নোটিশ পরিবর্তন ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না যশোর জেলা বাতায়নে। যে কোনো তথ্যের জন্য বাতায়নের সাহায্য চাইলেই মিলছে ১২ বছর পূর্বের তথ্য। এ দীর্ঘ সময়ে জেলার চেহারা বদলে হয়েছে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধ। কিন্তু বাতায়নে তার কোনো ছোঁয়া পড়েনি। জেলা বাতায়নে খুঁজলে পুরোনা হলেও তথ্য মেলে কিন্তু এর সাথে সংশিস্নষ্ট অন্যান্য সরকারি অফিসের বাতায়নে কোনো তথ্যই নেই বললেই চলে।
২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে যশোর জেলা ডিজিটাল জেলায় রূপাšত্মরিত হয়। তবে ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর যশোরকে ‘বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা’ ঘোষণা দেয়া হয়। যা ছিল সরকারের একটি যুগাšত্মকারি সাফল্য এবং যশোরের জন্য মর্যাদাকর। জেলা ই-সেবাকেন্দ্র তথ্য-প্রযুক্তিতে আনে বৈপস্নবিক পরিবর্তন। জেলা তথ্য বাতায়নের (িি.িফপলবংংড়ৎব.মড়া.নফ) ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করে মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই মিলতে থাকে জমির পর্চা। প্রথম দুই বছরে ৭০ হাজারের বেশি পর্চা ইস্যু হয়। ই-সেবা কেন্দ্রের সহায়তায় চিঠিপত্র পৌঁছে যায় সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তার কাছে। ই-সেবাতেই ফলাফলও পাচ্ছিল জনগণ।
যশোর জেলার এক হাজার ২৬৬টি স্কুলের ওয়েবসাইটের সমন্বয়ে একটি ওয়েব পোর্টাল (িি.িলবংংড়ৎববফঁপধঃরড়হ.মড়া.নফ) তৈরি করা হয়েছিল। এই পোর্টালের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকের দৈনিক উপস্থিতি, ক্লাস পরীক্ষার তথ্য, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভা, অভিভাবক সমাবেশের তথ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয় সংরড়্গতি হচ্ছিল। স্কুলের দৈনন্দিন তথ্য খুদেবার্তার মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছিল অভিভাবকদের কাছে। এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যেকোনো বৈঠক বা আলোচনায় উপস্থিত থাকার জন্য খুদেবার্তার মাধ্যমে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছিল। সময়ের ব্যবধানে সবকিছু অতীত হয়ে গেছে। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা রড়্গা করা না যাওয়ায় অতীতের তথ্যগুলো অনুসন্ধানিচ্ছু মানুষের সাথে যেন প্রহসন করছে।
যখন যশোর ডিজিটাল হয়েছিল তখন যশোরে কোনো তারকা মানের হোটেল ছিল না। এখন আছে কয়েকটি। বাতায়নে এসব তথ্য নেই। বরং এমন কয়েকটি আবাসনের তথ্য আছে যেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু হোটেল নয়, শিড়্গাপ্রতিষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধ ও যোদ্ধার তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আবার জেলায় কর্মরত সাংবাদিক, সংবাদপত্রের যে তালিকা দেয়া আছে তাতে অনেকের কর্মস্থল বদলেছে, অšত্মত ৯ জন সাংবাদিকের নাম আছে যারা অনেক বছর আগে মারা গেছেন। তাদের নামে এখনো চিঠিও ইস্যু করা হয়। যেসব গণমাধ্যম বন্ধ আছে সেসবের নামও আছে এই তালিকায়।
জেলা প্রশাসনের সরকারি কিছু কর্মকর্তার তালিকা ছাড়া ওই বাতায়নে প্রায় সব তথ্যই বর্তমানের সাথে সাংঘর্ষিক। বাতায়নের সাথে লিংক করা অন্যান্য পেজে ক্লিক করলে কোনো তথ্যই পাওয়া যায় না, সাদা একটি পৃষ্ঠা প্রদর্শিত হয় মাত্র। আবার অšত্মত ৩০টি অফিসের লিংক সাইট গত ৬ থেকে ২ মাসের মধ্যে আপডেট হয়নি।
আব্দুর রহমান নামে একব্যক্তি জানান কৌতুহল বসত জেলার মসজিদের তথ্য জানতে জেলা বাতায়ন ঘেটে পেয়েছি ২০১২ সালের তথ্য।
যশোরের দর্শনীয় স্থান হিসেবে প্রথমে ঝাঁপা বাঁওড়ের কথা উলেস্নখ করা হয়েছে। মাত্র ১৭টি স্থানের কথা উলেস্নখ করা হলেও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরম্নত্ব অথবা কিভাবে এসকল স্থানে পৌঁছানো যাবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই সেখানে।
কিছু ভুল তথ্যও রয়েছে বাতায়নে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার বিসিএস ব্যাচ ‘৯৯৭’ প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিসিএস ব্যাচ ‘৯৯৮’, আরও এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার ব্যাচ ‘৯৯৯’ দেখানো হয়েছে। এ ধরনের কোনো ব্যাচ নং যথাযথ না । রাইফেল ক্লাবের পরিচিতিতে যে কমিটির নাম উলেস্নখ করা হয়েছে তাও ২০১১ সালের।
সমসাময়িক বিষয় করোনা তথ্য সংক্রাšত্ম একটি লিংক যুক্ত করা আছে। সেখানে পুরোনো তথ্যের সমাহার। টিকা সংক্রাšত্ম অপডেট তথ্যও নেই।
কয়েকটি অফিসের তথ্য বছরের পর বছর আপডেট করা হয় না। পাট অধিদপ্তরের পেজ আপডেট দেখানো হয়েছে ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং কর্পোরেশনের পেজটি আপডেট দেখানো হয়েছে একই বছরের ২৪ জানুয়ারি, আবার কৃষি উন্নয়নের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইটটি আপডেটই হয়নি, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কোনো আপডেট তারিখ বা সময় লেখা নেই। সরকারি হাঁসমুরগির খামারের তথ্য আপডেট হয়েছে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রম্নয়ারি, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য আপডেট দেখানো হয়েছে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ। খোদ তথ্য অফিসের পেজটি আপডেট লেখা হয়েছে চলতি বছর ৪ অক্টোবর।
৩০-১১-২০২২ তারিখে আপডেট হওয়া জেলার পত্রপত্রিকা বিভাগে যে নাম আছে তাতে মিজানুর রহমান তোতা, রেবা রহমান, এসকে জমির আহমেদ টুন, আর এম মঞ্জুরম্নল আলম টুটুল, ফখরে আলম, সাহা কিরণ কুমার কচি, জীবন বোস, এস এম হাবিব উলস্নাহ, আশিকুজ্জামান টুটুলের নাম কর্মরত দেখানো হয়েছে। কিন্তু তারা অনেক আগেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাদের এসব আপডেট করার কথা তাদের অনেকেই এ বিষয়ে দড়্গ নন। প্রাথমিক পর্যায়ে ডাটাএন্ট্রির কাজ আউট সোর্সিং এ নিয়োগ পাওয়া লোক দিয়ে করা হয়েছিল। তারা যা করে দিয়ে গেছেন, তার বেশি কিছু করার ড়্গমতা কর্মরত অনেকের নেই। যারা করার চেষ্টা করেন, তারা নতুন কিছু যুক্ত করতে যেয়ে ডিলিটও করে ফেলেন। যেমন যশোরের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রাšত্ম তথ্য। অল্প সংখ্যক ব্যক্তি নোটিশ আপডেট করেই খাšত্ম থাকেন। স্বাভাবিকভাবে পেজে কোনোকিছু আপডেট করলেই গোটা পেজটি আপডেট দেখায়। এতেই ধরে নেয়া হয় সবকিছু আপডেট হচ্ছে।
এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান দৈনিক সমাজের কথাকে বলেন, প্রতি মিটিংয়ে সব অফিসকে সম¯ত্ম তথ্য আপডেট করার কথা বলা হয়। এখন থেকে আরো জোর দেয়া হবে যাতে তথ্য আপডেট থাকে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭৩০৮৫৫৯৭৯, ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram