৭ই ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
চেয়ার
25 বার পঠিত

অনেক অনেক কাল আগে কোন এক দেশের এক সরকারি অফিস। সকাল দশটা বাজতেই বড়বাবু অফিসে ঢুকলেন। এখনই মোহাম্মাদ আব্দুস সাত্তার চলে আসবেন। বড় বাবুর গ্রামের লোক তিনি। কয়েক দিন ধরে মোকদ্দমা নিয়ে আসছেন বড়বাবুর কাছে। কিন্তু নানান প্রসঙ্গ ও মিটিংয়ের ব্যস্ততায় আব্দুস সাত্তারকে তিনি সময় দিতে পারছেন না। অগত্যা আজ আবারো আসছেন আব্দুস সাত্তার। বয়সে বৃদ্ধ হলেও এখনো বল আছে বৈকি!
আব্দুস সাত্তার ঢুকলেন। বড় বাবুকে সালাম দিলেন। বসতে বলায় বসলেন। অতঃপর ঘণ্টা দেড়েক আলাপ। বাইরে বেরিয়ে দেখা হলো আরেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার সাথে। তিনি আব্দুস সাত্তারের কাছের একজন। তার দুঃসম্পর্কের এক মামাতো ভাই। লোকটি যে ট্রান্সফার হয়ে এ অফিসে এসেছেন, আব্দুস সাত্তার জানতেন না।
কর্মকর্তার সাথে আব্দুস সাত্তারের আলাপ জমলো। এক প্রসঙ্গে আব্দুস সাত্তার বলেই ফেললেন, ‘আফনেগোর অফিসের বড়বাবুর রুচিবোধ মিয়া খুবই খারাপ। তার চেয়ারডা মনে হয় প্রাচীন প্রস্তর যুগের। লোহার চেয়ারডায় জং ধরতে ধরতে শেষ, তার উপর আবার লেদারটা ছিঁড়া। ভিতরের মশলাও প্রায় বের হইয়া যাইতাছে। চেয়ারটা বদলে নিলেও কি খুব ক্ষতি হয়ে যেতো?’
উত্তরে আব্দুস সাত্তারের পরিচিত লোকটি জবাব দিলেন,‘মিয়া তিনি খালি না, অফিসের প্রত্যেকটা রুমের একই অবস্থা। লইন, আফনারে দেখাই। আফনে আমার নিজের লোক। আসল কথা হইলো, এই চেয়ারগুলা ঠিক করার উছিলায় ভালো টাকা কামানো যায়। সময়ে সময়ে চেয়ারগুলো মেরামতের জন্য সরকারি দপ্তর থেকে মাল আনি। মাল নানা কাজে খরচ হইয়া যায়। চেয়ার চেয়ারের জায়গায়ই থাকে। এই আরকি!’’
আব্দুস সাত্তার আর কিছু বললেন না। মুচকি হাসি দিয়ে বাড়ির পথ ধরলেন। দুপুরের রোদ খুব কড়া। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭৩০৮৫৫৯৭৯, ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram