২৯শে জানুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
অর্ধেক জনবলে চলছে যশোর শিক্ষাবোর্ড
অর্ধেক জনবলে চলছে যশোর শিক্ষাবোর্ড

তহীদ মনি : জনবল নিয়ে চরম সংকটে  পড়েছে যশোর শিক্ষাবোর্ড । অনুমোদিত ২৫৩ পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১২২ জন, শূন্য রয়েছে ১৩১ টি পদ। অল্প দিনের মধ্যে অবসরে যাবেন আরও অন্তত ২০ জন। কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে পৌছে যাওয়া কয়েকজন ইতোমধ্যে অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি কাটাতে শুরু করেছেন। ফলে বোর্ডে  বর্তমানে পদের অনুকুলে চেয়ার থাকলেও সেগুলোর অর্ধেকে বসার লোক নেই।

শিক্ষাবোর্ড বোর্ড সুত্রে জানাগেছে, প্রায় এক যুগ বোর্ডে শূন্য পদের বিপরীতে কোনো নিয়োগ হয়নি। এজন্য কমতে কমতে জনবল অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে স্থবির হয়ে পড়বে বোর্ডের  কাজকর্ম। একই সাথে বোর্ডের বিভিন্ন কাজ ডিজিটালাইজড হওয়ায় দক্ষ লোকেরও অভাবও বাড়ছে দিনদিন।  কারণ পুরাতন যারা রয়েছেন, বয়সজনিত কারণসহ নানা কারণে যুগের সাথে তাল মেলাতে পারছেন না তাদের অনেকই। এ কারণেও দিন দিন যশোর শিক্ষাবোর্ডে কাজ শেষ করতে গিয়েও চাপে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের । তবে বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগের ব্যাপারে একাধিকবার আশ্বাস পাওয়া গেলেও  তারা এখনো অনুমোদন পাননি। এজন্য লোকবল সংকট নিয়েই তাদের কাজ করতে হচ্ছে।

বোর্ড সূত্রমতে, চলতি বছর মোট ৫ জন অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ায় ইতোমধ্যে ৬ জন চলে গিয়েছেন আরো   অন্তত একজন যাবেন। একজনকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০২৩ সালে ১২জনের অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। মৃত্যু জনিত কারনে শূন্য হয়েছেও কয়েকটি চেয়ার। প্রতি বছর ৫ থেকে ১৪ জন অবসরে যাওয়ার তালিকায় রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বার বার তাগিদ দিয়েও নিয়োগ দেওয়ার অনুমতি পাচ্ছে না বোর্ড। বোর্ডের পক্ষ থেকে সর্বশেষ শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও ফাইল দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখন  নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার কোনো অনুমতি পাওয়া যায়নি।

জনবল কাঠামো অনুযায়ী বোর্ডে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার  জন্যে অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৫টি। এর মধ্যে শূন্য রয়েছে একটি । দ্বিতীয় শ্রেণির ২৩টি অনুমোদিত পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৮টি। তৃতীয় শ্রেণির সেকশন অফিসার ও সমমর্যাদার ১৯টি পদ ও একই শ্রেণির উচ্চমান সহকারী পদমর্যাদার  পদ রয়েছে ৫১টি । সব মিলিয়ে এই শ্রেণির ৩৫ টি পদ শূন্য রয়েছে।   নিম্নমান সহকারী ও সমমর্যাদায় ৫৩টি পদের মধ্যেও অর্ধেক পদেই কোনো লোক নেই। চতুর্থ শ্রেণির ৮৩টি পদের বিপরীতে ৪৪টিই রয়েছে শূন্য । সব মিলিয়ে ১৩১ জনকে এখনই নিয়োগ না দিলে সমস্ত কাজই বাধাগ্র¯ত্ম হবে বলে জানান দায়িত্বশীলরা। তাদের মতে,  এখনই নিয়োগ দিলেও ২০২৯ সালের মধ্যে আবারো অন্তত অর্ধশত পদ শূন্য হয়ে যাবে। ফলে নিয়োগ একবার দিয়েও কাজ শেষ হবে না। ৩/৪ বছর বিরতি দিয়ে আবারও নিয়োগ দিতে হবে, নতুবা একই শূন্যতা বিরাজ করবে তখনো। 

এদিকে পূর্বের জনবল যদি সম্পূর্ণ মানা হয় তবুও শিক্ষাবোর্ডের কাজের চাপ ও পরিধি কমছে না বলে মনে করেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের মতে, শিক্ষাবোর্ডে কাজের পরিধি বেড়েছে অনেক। প্রথমত এখন বেশিরভাগ কাজ ডিজিটালাইড হয়েছে। সে হিসেবে বোর্ডে দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে। অনেকের মতে, নিয়োগের  ক্ষেত্রে আগের ব্যবস্থায় কোটা পদ্ধতি রয়েছে। সেখানে বর্তমান যুগোপযোগী জনবল না পেলেও পোষ্য কোটাসহ নানা কোটায় তাদের নিয়োগ দিয়ে জনশক্তি বাড়লেও কর্মশক্তি বাড়বে না। দ্বিতীয়ত বোর্ডের আওতায় স্কুল কলেজ বেড়েছে এবং শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার সংখ্যাও বেড়েছে। আগে এসএসসি ও এইচএসসি এই দুটি পরীক্ষা নিলেও বোর্ডকে এখন জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি এই তিনটি পরীক্ষার সাথে টেস্ট পরীক্ষাও নিতে হয়। তাছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ে সকল শ্রেণির জন্যে প্রশ্ন ব্যাংক চালু করায় সেখানেও কাজ বেড়েছে অনেক। সব মিলিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলতে প্রচলিত জনবল কাঠামোকে সংস্কার ও পদ বৃদ্ধি প্রয়োজন বলেও মনে করেন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা । তাদের মতে, এমনিতেই লোক কম, তার ওপর কাজের পরিধি দিন দিন বেড়ে যাওয়ায়  সারা বছরই তাদের  কর্মব্যস্ত থাকতে হয়।  এজন্য বোর্ডে দক্ষ জনবলেরও যথেষ্ট সংকট রয়েছে।

কর্মরতরা জানান, তারা জনবল সংকটে চরম চাপে রয়েছেন এজন্য সব সময় সবাইকে কাঙ্খিত সেবাও দেওয়া যাচ্ছে না। বোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার জনবল নিয়োগের অনুরোধ করা হলেও এ পর্যšত্ম কোনো কাজ হয়নি ।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাকসুদ আল হাবীব জানান, ২০১২ সালের পর বোর্ডে আর কোনো নিয়োগ হয়নি। এজন্য শূন্য পদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কারণ একদিকে বছরের পর বছর নিয়োগ বন্ধ অন্যদিকে প্রতি মাসে দুই একজন করে অবসরজনিত পিআরএল-এ চলে যাচ্ছেন। কারো কারো মৃত্যুও হয়েছে। ফলে শুন্য পদের সংখ্যা বাড়ছেই।

চাকরি বিধির কারণে বোর্ডের কর্মচারীরা বক্তব্য দিতে পারেন না উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  বিভিন্ন সেকশনে কর্মরতরা স্বীকার করেছেন লোকবল সংকটের কারণে তাদের  বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির ২৫টি পদের বিপরীতে ২৪ জন কর্মরত থাকলেও তাদের সহকারী বা ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির জনবল রয়েছে অনেক কম । এ কারণে যশোর শিক্ষাবোর্ড এখন মাথাভারী প্রশাসনে পরিণত হয়েছে। অনেক শাখায় এমন হয়েছে যে, কর্মকর্তা আছেন, কর্মচারী নেই। অনেক পদে লোক নেই-নেই পরিচালক হিসাব ও নিরীক্ষারমত পদেও।

যশোর শিক্ষা বোর্ড এমপ্লইজ ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান বাবলু জানান, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ আলীম এবং অধ্যাপক ড. মোল্লা আমীর হোসেনকে একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু জনবল বৃদ্ধি হয়নি। ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি মো. আব্দুল মান্নানও তীব্র জনবলের অভাবের কথা জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান চেয়ারম্যান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চেষ্টা করছেন। অনুমোদন না পেলে কারো কিছু করার নেই। তবে কাজ কর্মে  সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আব্দুল খালেক সরকার বলেন, জনবল সংকটে খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে, বলা চলে রাত দিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে সবাইকে। শুধু জনবল নিয়োগ দিলে হবে না, যুগোপযোগী চলার জন্যে নিয়োগের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিও আনতে হবে বলেও  মন্তব্য করেন তিনি।

বোর্ডের চেয়রম্যান প্রফেসর ড. মো. আহসান হাবীব জনবল সংকটকে চরম সমস্যা হিসেবে উল্লখে করে জানান, লোকবল কম থাকায় কাজের ক্ষেত্রে মারাত¥ক সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব আয়ে কর্মচারীদের বেতন দিতে হলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। শক্ষিা সচিবের কাছে একাধিকবার উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশ্বাসও দিয়েছেন। শক্ষিা মন্ত্রীর হাতেও ফাইল দেওয়া হয়েছে, তিনিও আশ্বাস দিয়েছেন। এখন অপক্ষো করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহীন চাকলাদার  |  ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আমিনুর রহমান মামুন।
১৩৬, গোহাটা রোড, লোহাপট্টি, যশোর।
ফোন : বার্তা বিভাগ : ০২৪৭৭৭৬৬৪২৭, ০১৭১২-৬১১৭০৭, বিজ্ঞাপন : ০১৭৩০৮৫৫৯৭৯, ০১৭১১-১৮৬৫৪৩
Email : samajerkatha@gmail.com
স্বত্ব © samajerkatha :- ২০২০-২০২২
crossmenu linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram