যশোরে বীজ ধানের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড
# ফায়ার সার্ভিসকর্মী আহত
# পানি সংকটে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ

78
যশোরে বীজ ধানের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড# ফায়ার সার্ভিসকর্মী আহত# পানি সংকটে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২২) সকালে যশোর শহরতলীর শানতলা এসিআই সিড প্রসেসিং সেন্টারে (বীজ ধানের গোডাউন) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সেনানিবাস ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কিছু জানাতে পারেনি।

তবে আগুন নেভাতে যেয়ে মাসুদ রানা নামে এক ফায়ার সার্ভিসকর্মী আহত হয়েছেন। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, আগুন নিয়ন্ত্রণে পানির সংকটে বেগ পেতে হয়েছিল ফায়ার অ্যান্ড সিভিল সার্ভিসের কর্মীদের। এ কারণে নিজেদের রিজার্ভ পানি শেষ হয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড়কিলো দূরে বিএনসিসির পুকুর থেকে পানি নিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পানি সংকট না থাকলে আরও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস।

এসিআই সিড প্রসেসিং কোম্পানি লিমিটেডের শানতলার ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে গোডাউনের ভেতর থেকে আগুনের সূত্রপাত দেখতে পান তারা। এরপর নিকটস্থ সেনাবাহিনীর ফায়ার স্টেশনে খবর দিলে দুটি ইউনিট আগুন নেভাতে থাকে। হঠাৎ করেই আগুনের তীব্রতা বাড়ায় তারা যশোর ফায়ার সার্ভিসের সাহয্য চাইলে আরও তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তবে কিভাবে এ আগুন ধরেছে সেটা তিনি বলতে পারেনি। কেননা গোডাউন ভর্তি বীজ ধান ছিলো, যা আগুনে পুড়ে গেছে এবং আগুন নেভাতে গিয়ে পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। তাই পুরো গোডাউন খালি করে খাতা দেখলে নির্ধারিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাবে। তবে বড় ধরণের ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি। কোম্পানির এধাধিক কর্মচারীদের ধারণা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
যশোর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মনোরঞ্জন কুমার সমাজের কথাকে বলেন, আমরা সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে জানতে পারি শানতলা এসিআই সিড প্রসেসিংয়ের গোডাউনে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ও যশোর সেনানিবাস ফায়ার সার্ভিসের ২টি সর্ব্বোমোট ৫ ইউনিট ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। আগুন নেভানো শেষে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তখন জানা যাবে কীভাবে আগুন লেগেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত করে জানাতে পারবো। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে আমাদের এক ফায়ারকর্মী আহত হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে পানির সংকটে বেগ পেতে হয়েছিল ফায়ার অ্যান্ড সিভিল সার্ভিসের কর্মীদের। এ কারণে নিজেদের রিজার্ভ পানি শেষ হয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড়কিলো দূরে বিএনসিসির পুকুর থেকে পানি নিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পানি সংকট না থাকলে আরও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস।