যশোরে হত্যা ও সোনা চোরাচালান মামলায় দু’জনের যাবজ্জীবন 

118
যশোরে হত্যা ও সোনা চোরাচালান মামলায় দু’জনের যাবজ্জীবন 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরের বেনাপোলে কৃষক শাহাজান হত্যা ও সোনা চোরাচালান মামলার পলাতক দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে পৃথক দু’টি আদালত।

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২) সিনিয়র দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জজ আদালতের বিচারক মো. ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক এবং বিশেষ দায়রা জজ ও স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সামছুল হক এই রায় দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো, বেনাপোলের সাদিপুর গ্রামের ছেউদ উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন আলম এবং একই গ্রামের মধ্যপাড়ার তাহাজ্জত আলী সরদারের ছেলে জিহাদ আলী সরদার।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিপি অ্যাডভোকেট এম ইদ্রিস আলী ও বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে চৌগাছার ৪৯/বি শাহজাদপুর ক্যাম্পের বিজিবি সাদিপুর গ্রামের মসজিদের সামনে অবস্থান নেয়। সকাল ১০টার দিকে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে একজনকে মসজিদের সামনে এসে দৌঁড়ে পালিয়ে যেতে দেখে।

এ সময় তাকে আটক করা হয়। আটক জিহাদ আলী সরদারের দেহ তল্লাশি করে হাফ প্যান্টের পকেটে রাখা ১০ পিচ সোনার বার উদ্ধার করা হয়। যার ওজন ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম।

এ ব্যাপারে বিজিবির নায়েক সুবেদার আব্দুল মালেক চোরাচালান দমন আইনে আটক জিহাদ আলীর বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর যশোর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি জিহাদ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।

অপরদিকে, বেনাপোলের সাদীপুর গ্রামের আলমগীরের কাছে ধারের ১০ হাজার টাকা পেতেন কৃষক শাহাজাহান আলী। পাওনা টাকা চাওয়ায় আলমগীর ক্ষিপ্ত হন শাহাজাহানের উপর। ২০০৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গ্রামের পশ্চিম মাঠের জমিতে পানি দিতে যান শাহাজাহান আলী। মাঠে গিয়ে দেখেন আলমগীরও তার জমিতে পানি দিচ্ছে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহাজাহান জমিতে পানি দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রাস্তার কালভার্টের উপর পৌঁছালে আলমগীর ধাওয়া করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরমধ্যে আশেপাশের লোক ঘটনাস্থলে আসলে আলমগীর ভারতের দিকে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে নিহতের ছেলে ইউসুফ বাদী হয়ে আলমগীরের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই বছরের ৪ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওমর শরীফ। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি আলমগীর হোসেন আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।