যশোরের আলোচিত আফজাল হত্যা মামলা সিআইডিতে

138
যশোরের আলোচিত আফজাল হত্যা মামলা সিআইডিতে

লাবুয়াল হক রিপন :
যশোরের আলোচিত আফজাল হোসেন হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডি। মামলার বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে কোতোয়ালি থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর হয়।
চলতি বছরের ২৯ মে শহরের নাজির শংকরপুরে খুন হয় আফজাল হোসেন।

এ খুনের পর তার স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ট্যারা সুজনসহ কয়েকজন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। আসামীরা আটক না হওয়া ও নৈপথ্য পরিকল্পনাকারী চিহ্নিত না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বাদি নিহতের পিতা ছলেমান শেখ। সঠিক তদন্ত এবং মূল খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের আটকের জন্য পুলিশ সদর দফতরে আবেদন করেন তিনি। পুলিশ সদর দফতর পরিকল্পনাকারী ও খুনিদের আটক এবং বাদীর ন্যায় বিচার পাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি সঠিকভাবে তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশ যশোরের উপর ন্যাস্ত করে।

আর সেই আদেশের ভিত্তিতে তিনদিন আগে কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শরীফ আল মামুনের কাছ থেকে সিআইডি পুলিশ যশোরকে হন্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসআই শরীফ আল মামুন জানিয়েছেন, এই মামলার তদন্তে চারজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। এরপর মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন ও পলাশ হোসেন নামে দুই আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরের নাজির শংকরপুর চাতালের মোড় এলাকার চা বিক্রেতা ছলেমান শেখের ছেলে আফজাল হোসেন। ছোটখাট ঠিকাদারী করলেও তার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলাও ছিল। এলাকায় তিনি ওয়ার্ড কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবুলের লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নীলগঞ্জ তাঁতীপাড়ার জিন্নাত আলীর ছেলে সুজন ওরফে ট্যারা সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বছর দেড়েক আগে ট্যারা সুজনকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে আফজাল হোসেন। ওই সময় চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কাজে কাউন্সিলরের আশির্বাদপুষ্ট হয় ট্যারা সুজন। ফলে আফজালের সাথে ট্যারা সুজনের দূরত্ব দিনে দিনে বাড়তে থাকে।

খুনের কয়েকদিন আগে নাজির শংকরপুর এলাকার একটি জমি বিক্রয়ের দালালীর টাকা পেতে চেয়েছিল আফজাল। কিন্তু কাউন্সিলর বাবুলের হস্তক্ষেপের কারনে তা সম্ভব হয়নি। মোটা অংকের টাকা হাতছাড়া হওয়ায় কাউন্সিলরের উপর ক্ষিপ্ত হয় আফজাল। কাউন্সিলরের কাছে ওই দালালির টাকা দাবি করে বসে। আফজালকে টাকা দেয়া তো দুরের কথা বরং ধমকে রাখেন কাউন্সিলর। এরপরই সেই জমিতে মাটি ভরাটের দায়িত্ব পান জিরো পয়েন্ট এলাকার আরেকজন।

মাটি ভরাটের টাকায়ও ভাগ বসাতে চেয়েছিলেন আফজাল হোসেন। কিন্তু আফজালকে টাকা দিতে নারাজ হওয়ায় মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেয় । ঘটনার দিন ২৯ মে বিকেলে সেই জমিতে স্বশরীরে হাজির হন কাউন্সিলরসহ মাটি ভরাটের ঠিকাদার। সেখানে গিয়ে আফজালকে সন্ধ্যায় জিরো পয়েন্ট মোড়ে কাউন্সিলরের অফিসে আসতে বলা হয়। সন্ধ্যার পরে আফজাল সেখানে যান। কাউন্সিলরের সাথে কথা শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করেন । কাউন্সিলরের অফিসের কয়েকজন দুরে পৌছানো হামলার শিকার হন। স্থানীয়রা আফজালকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।