যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পাচ্ছে স্থায়ী ও স্বতন্ত্র আইসিইউ ওয়ার্ড  

90
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পাচ্ছে স্থায়ী ও স্বতন্ত্র আইসিইউ ওয়ার্ড  

এস হাসমী সাজু :
অবশেষে স্থায়ী ও স্বতন্ত্র আইসিইউ ওয়ার্ড পাচ্ছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। করোনারি কেয়ার ইউনিটের ৪র্থ তলা ‘আইসোলেশন ও আইসিইউ ওয়ার্ড’ প্রস্তুত করেছে গণপূর্ত বিভাগ। শিগগির ৩০ বেডের স্বতন্ত্র এ ওয়ার্ডটি উদ্বোধনের আশা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুধুমাত্র করোনা রোগীদের কথা মাথায় রেখে এ ওয়ার্ড নির্মাণ হলেও মুমূর্ষু সকল রোগীর জন্য ব্যবহৃত হবে এমনটি বলছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান। সেটি হলে আইসিইউ সেবার জন্য এ অঞ্চলের রোগীদের আর খুলনা ঢাকা করতে হবে না।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, নতুন এ ওয়ার্ডে থাকবে রোগীদের বেড, চিকিৎসক ও নার্সদের বসার কক্ষ, অক্সিজেন, লেবু লাইজার এবং ভেন্টিলেটরসহ বিভিন্ন উপকরণ। সম্পন্ন ওয়ার্ড শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের জন্য লাগানো হয়েছে ২০টি এসি। লিফট সুবিধাও থাকবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ২০২০ সালের মার্চে করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশন ও আইসিইউ ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র আইসোলেশন ও আইসিইউ ওয়ার্ডে জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠান। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আইসোলেশন ও আইসিইউ ওয়ার্ড নির্মাণের জন্য তিন কোটি টাকা বরাদ্দ পায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় যশোর গণপূর্ত বিভাগ।

একইবছরের ২০ নভেম্বর থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটের ৪র্থ তলা সম্প্রসারণ করে স্বতন্ত্র আইসোলেশন ও আইসিইউ ওয়ার্ড নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে ওই সময় করোনা রোগীদের পাশে এগিয়ে আসে সাজেদা ফাউন্ডেশন। তারা অস্থায়ীভাবে ২০ বেডের আইসোলেশন ও ২০ আইসিইউ মোট ৪০ বেডের ওয়ার্ড তৈরি করে দেয়। হাসপাতালে দ্বিতীয়তলায় অপারেশন থিয়েটারের সামনে অস্থায়ী এ ওয়ার্ডটি এখনও চালু আছে। স্থায়ী ওয়ার্ড চালু হলে এ ওয়ার্ডের যন্ত্রপাতি স্থানন্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অস্থায়ী ওয়ার্ডের স্থানে কিডনি ডায়োলসিস ওয়ার্ড চালুর পরিকল্পনা আছে কর্তৃপক্ষের।

যশোর গণপূর্ত বিভাগের উপ-প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ভবন নির্মাণ কাছ শেষ হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ নির্বাহী প্রকৌশলীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম কাজল জানান, হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশন ও আইসিইউ ওয়ার্ড নির্মাণ হয়েছে। এরফলে এখানে শুধু ভাইরাস সংক্রান্ত রোগী থাকতে পারবে। এরফলে হাসপাতালে অন্যান্য রোগীরা নিরাপদ থাকবে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুস সামাদ জানান, ওয়ার্ডের কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার পরে রোগী পরিষেবার কাজ শুরু হবে। ওয়ার্ড প্রস্তুতি কাজ একেবারে দ্বারপ্রান্তে। সব ধরনের সুযোগ, সুবিধা এখানে থাকবে। এখন শুধু সাজানো গোছানোর কাজ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখন আসবাবপত্র, বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন, এয়ারকন্ডিশনিং ও অন্য পরিষেবার কাজ চলছে।

যশোর মেডিকেল কলেজের এনেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এএইচএম আহসান হাবিব জানিয়েছেন, যশোরের মানুষের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ওয়ার্ড চালু হচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে ১০টি বেড, ভেন্ট্রিলেটর, মনিটর, এবিজি মেশিনসহ উন্নত মেশিন এসে পৌঁছেছে। তিনি আরও জানান, প্রথমে আইসিইউ শুধু করোনা রোগীদের জন্য প্রস্থাবনা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে করোনা সহনীয় পর্যায়ে আসার কারণে এখন সকল রোগী এই ওয়ার্ডে সেবা নিতে পারবেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশন ও আইসিইউ ওয়ার্ড নির্মাণ হচ্ছে। চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের প্রথমে এ ওয়ার্ড চালু হবে। এ ওয়ার্ডে তিনটি ভাগ থাকবে। আইসিইউর মধ্যে একটি অংশে ভাইরাস সংক্রান্ত রোগী থাকবে এবং অপর অংশে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ও লাইভ সার্পোটের রোগী থাকবে।

এছাড়া দক্ষিণ ব্লকে জেনারেল বা সন্ধেহভাজন রোগীদের থাকার ব্যবস্থা থাকবে। তিনি আরও বলেন, এখানে শুধু করোনা ভাইরাসের রোগী থাকবে না। বরং লাইভ সার্পোট সংক্রান্ত রোগীরা থাকতে পারবে।