শিশু ও প্রবীণদের বসবাসের অনন্য পল্লী যশোরে ‘আমাদের বাড়ি’ যাত্রা শুরু
# বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে ধারণ করে তরুন প্রজন্ম গড়ে তুলবে স্বপ্নের সোনার বাংলা : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

108
শিশু ও প্রবীণদের বসবাসের অনন্য পল্লী যশোরে ‘আমাদের বাড়ি’ যাত্রা শুরু # বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে ধারণ করে তরুন প্রজন্ম গড়ে তুলবে স্বপ্নের সোনার বাংলা : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরের সদর উপজেলার নাটুয়াপাড়ায় যাত্রা শুরু করলো ‘আমাদের বাড়ি’ নামে অনন্য এক প্রতিষ্ঠান। অসহায় স্বচ্ছল-অস্বচ্ছল এবং প্রবীণ-শিশুদের সবাইকে এক ছাতার নিচে বসবাসের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী এই প্রতিষ্ঠানটি।
যশোর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার নাটুয়াপাড়া গ্রামে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জিএমএসএস ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যাগে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে গ্রামীণ মনোরম পরিবেশে প্রায় ২ একর জমির ওপর এটি নির্মিত সমন্বিত প্রবীণ ও শিশু নিবাসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি।
উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন জনগণকে জমি ও গৃহ প্রদান করে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। বিশ্বের বুকে ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে রোডম্যাপ প্রণয়ণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, সেটি বাস্তবায়িত হলে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।
স্বাধীনতা বিরোধীচক্রদের সমালোচনা করে মন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। আজকের তরুণ প্রজন্মই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর চেতনার ধারক ও বাহক। এ চেতনাকে ধারণ করে তারাই একদিন গড়ে তুলবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। তাই আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারও ক্ষমতায় আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি ও যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার জিল্লুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার। জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এসময় আরোও বক্তব্য রাখেন যশোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক অসিত কুমার সাহা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রামীণ মনোরম পরিবেশে প্রায় ২ একর জমির ওপর ৪ তলাবিশিষ্ট ভবনটিতে ১৫০ জন বসবাস করতে পারবেন। নির্মাণ ব্যয়ের ৮০ শতাংশ সরকারের এবং ২০ শতাংশ জিএমএসএস ফাউন্ডেশনের। এই মুহূর্তে এখানে বসবাসের জন্য প্রায় ৭০ জনের ডাটাবেজ করা হয়েছে। ১২ জন অবস্থান করছেন। উদ্বোধনের পরপরই সবার থাকার ব্যবস্থা উন্মুক্ত করা হবে। সরকারের সাথে চুক্তি অনুযাযী ৩০ ভাগ বিনামূল্যে রাখা হবে। ৭০ ভাগ থাকবেন যৌক্তিক মূল্যে। এটা সম্পূর্ণ অলাভজনক সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলে দানশীলরা এখানে আর্থিক সহায়তা দিয়ে সামাজিক অবদানে সুযোগ পাবেন। এখানে দেয়া সহায়তার অর্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত সুবিধার আওতায় থাকবে।
‘আমাদের বাড়ি’র স্বপ্নদ্রষ্টা জিএমএসএস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রফেসর ডা. এমএ রশিদ জানান, সমাজ ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে সাথে আমাদের পরিবারের ছেলে-মেয়েরা দেশে-বিদেশে কাজের সন্ধানে চলে যাচ্ছে। বাড়িতে থেকে যাচ্ছেন প্রবীণরা। তারা হয়ে পড়ছেন অবহেলিত। তাদের দেখার কেউ থাকছে না। এছাড়া সমাজের আরেকটি বড় অংশ অবহেলিত শিশুরা। এদের আমরা অনাথ বা এতিম বলছি না। যথাযথ সুবিধার অভাবে এরা মাদকাসক্তসহ নৈতিক অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠে। এসব শিশুদেরও এখানে নিয়ে এসে যত্নের সাথে গড়ে তোলা হবেÑ যেন তারা বিপথগামী হতে না পারে। এখানে তারা শুধু থাকবে, শুবে আর খাবে, ব্যাপারটা এমনও না। এই কম্পাউন্ডের চারপাশ জুড়ে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাইস্কুল, মহিলা মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেখানে তারা লেখাপড়া শিখতে পারবে। প্রবীণদের জন্য এখানে ব্যবস্থা আছে কৃষিকাজ, বাগান করা, পোলট্রি, গরু-ছাগলের খামার, মাছচাষের মতো কাজে যুক্ত থাকার সুযোগ। রয়েছে শরীরচর্চা, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার সবরকম সুবিধা। এমনকি ইসিজি, এক্সরেসহ প্যাথলজিকাল পরীক্ষা, বার্ষিক স্বাস্থ্য চেকআপ, জরুরি প্রয়োজনে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে শহরের দুটি হাসপাতালের সাথে করা চুক্তির আলোকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধার ব্যবস্থা। ছোট-বড় সবার জন্যেই রয়েছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।