যশোরে ‘সামাজিক-সম্প্রীতি’ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

135
যশোরে ‘সামাজিক-সম্প্রীতি’ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা ও সামাজিক বন্ধনকে সুসংহত রাখা, ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, সহিংসতা এবং সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে যশোরে ‘সামাজিক-সম্প্রীতি’ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৪ আগস্ট ২০২২) দুপুরে কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান। বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হাসান, সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক অসিত কুমার সাহা, ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম গোলাম আজম, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শোয়াইব হোসেন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারি অপু, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, জেলা দুপ্রকের সভাপতি মিজানুর রহমান, মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা খানম, জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস, জেলা ইমাম পরিষদের সেক্রেটারি বেলায়েত হোসেন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন, মহিলা সংস্থা যশোরের চেয়ারম্যান লাইজু জামান, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠির প্রতিনিধি মিনা রাণী পাল, শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী অহনা খালেক।
সভায় জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ২৪ জুলাই আলাদা তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ধর্মীয় সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিহত করতে দেশের সব জেলা-উপজেলায় ‘সামাজিক সম্প্রীতি কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। সরকারিভাবে গঠিত জেলা পর্যায়ের কমিটিতে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) করা হয়েছে সভাপতি। জেলায় ২৩ সদস্যের কমিটিতে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের রাখা হয়েছে উপদেষ্টা হিসেবে। পুলিশ সুপারকে রাখা হয়েছে সদস্য।
জেলার বাইরে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইউএনও। এ কমিটিতে সদস্য ২৪ জন। ইউএনওর সভাপতিত্বে কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে প্রধান উপদেষ্টা এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে উপদেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটিতে রয়েছেন ১৪ সদস্য। ইউপি চেয়ারম্যান এ কমিটির প্রধান। আর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে করা হয়েছে সদস্য সচিব।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটির সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় সম্প্রীতি সমাবেশ করবেন। ধর্মীয় সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিহত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবেন। মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সব ধর্মীয় স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে এসব কমিটি। সব ধর্মীয় উৎসব যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করবে এসব কমিটি।
এছাড়া ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার রোধে সবাইকে সচেতন করবেন কমিটির সদস্যরা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নড়াইল, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মবিশ্বাসীদের মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সবশেষ গত ১৭ জুলাই নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার একটি গ্রামে মন্দিরে হামলা-অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়। এসব ঘটনার পরই মূলত সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।