জেইউজের ‘আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়ো’ শীর্ষক স্মরণানুষ্ঠান
বঙ্গবন্ধু পার্থিব অস্তিত্বের উর্ধ্বে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব : অসিতবরণ ঘোষ

135
জেইউজের ‘আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়ো’ শীর্ষক স্মরণানুষ্ঠান বঙ্গবন্ধু পার্থিব অস্তিত্বের উর্ধ্বে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব : অসিতবরণ ঘোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক অধ্যাপক অসিতবরণ ঘোষ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিরঞ্জীব, তার চেতনা অবিনশ্বর। তিনি দলীয় নন; ছিলেন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক; চেতনার বিবর্তন, যোগাযোগ, প্রতিশ্রুতি, আত্মবিশ্বাস, সততা ও সমানুভূতির সমন্বয়ে যিনি ছিলেন পার্থিব অস্তিত্বের উর্র্ধ্বে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন আক্ষরিক অর্থেই ‘মৃত্যুর চেয়ে বড়’।
শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জেইউজে) উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। শনিবার (১৩ আগস্ট ২০২২)  দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের দ্বিতীয়তলার মিলনায়তনে ‘আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়ো’ শীর্ষক এ স্মরণানুষ্ঠান হয়।
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে বিভিন্ন অংশ তুলে ধরে একক বক্তব্যে অধ্যাপক অসিতবরণ ঘোষ আরও বলেন, বিদ্যা আর জ্ঞান আকাশপাতাল পার্থক্য এটা সকলকে বুঝতে হবে। বর্তমানে বিদ্যানের সংখ্যা লাখে লাখে বাড়ছে; কিন্তু জ্ঞানীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে কমছে। কারণ আমাদের মাঝে নিজের তথা দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাব।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ এর কালরাত্রিতে শ্মশানের প্রান্তচরেরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তারা একটি বিশেষ নামধারী দেহের বিনাশ করতে পেরেছিল মাত্র। কিন্তু তার মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাণ ও দুর্জয় আত্মা যে ক্রমশ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বময় হয়ে পড়েছে। কারণ তিনি কাপুরুষ ছিলেন না; তিনি ছিলেন সত্যকার প্রেম ও দেশহিতৈষণা যিনি চিরদিনই অহন্য, অবধ্য। তিনি ছিলেন মহান- ‘মহানরা সবচেয়ে অদ্ভুত হয় যখন তারা একা থাকে’। ঈশ্বরের দেওয়া শক্তি হল তাদের শক্তি। সেই শক্তিতেই বলিয়ান চিরঞ্জীব শেখ মুজিবুর রহমান।
‘যিশু খ্রিস্টের ক্রুসবিদ্ধ ছবির সাথে তুলনা হতে পারতো ৭৫ এর ১৫ আগস্টে ধানমন্ডির বাড়িতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার পূর্বমুহূর্তের অকুতোভয় ছবিটি। কিন্তু এমন ছবি কেউ আঁকেনি। যদি আঁকা হত তবে আমার যা কিছু আছে তাই দিয়ে ওই ছবিটি কিনে নিতাম-’ বলেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। আবেগ জড়িত কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন খুঁজি তারে আমি আপনায়- আমি শুনি যেন তার চরণের ধ্বনি- আমার পিয়াসী বাসনায়…’।
এ স্মরণানুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন জেইউজের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল। জেইউজের প্রযোজনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিশেষ কাব্যগ্রন্থের ‘মৃত্যুঞ্জয়’ কবিতা আবৃত্তির সাথে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ের স্থিরচিত্রের সমন্বয়ে নির্মিত ‘কাব্য তথ্যচিত্র’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ স্মরণানুষ্ঠান। স্বাগত বক্তব্য দেন ও সঞ্চালনা করেন যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এইচআর তুহিন।
উপস্থিত ছিলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, জাসদের কার্যকরি সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা অশোক রায়, প্রবীণ সাংবাদিক বীরমুক্তিযোদ্ধা রুকুনউদ্দৌলাহ, প্রেসক্লাব যশোরের সহসভাপতি ওহাবুজ্জামান ঝন্টু, সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মিলন রহমান, জেইউজে সাবেক সভাপতি সাজেদ রহমান, আমিনুর রহমান মামুন ও সাজ্জাদ গনি খান রিমন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি মনোতোষ বসু, নির্বাহী পরিষদ সদস্য শাহাবুদ্দিন আলম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যশোরের সভাপতি হারুন অর রশিদ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারু, উদীচী যশোর সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব, বিবর্তন যশোরের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর বিশ্বাস, স্পন্দন’র সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, সপ্তসুরের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকসহ সাংস্কৃতিক, সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।