কুচক্রি মহলের ‘অপরাজনীতির শিকার’ হলেন ফন্টু চাকলাদার 

366
কুচক্রি মহলের ‘অপরাজনীতির শিকার’ হলেন ফন্টু চাকলাদার 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কুচক্রি মহলের ‘অপরাজনীতির শিকার’ হলেন তরুণ ব্যবসায়ী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও যুবলীগ নেতা তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু।
যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ায় শরিফুল ইসলাম সোহাগ হত্যা মামলায় ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে’ তাকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দু’বছর ওই মহলের ইন্ধনে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ এক পুলিশ কর্মকর্তা ফন্টু চাকলাদারকে সোহাগ হত্যা মামলায় জড়িয়েছেন।

ষড়যন্ত্রমূলক হলেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ফন্টু চাকলাদার গত বৃহস্পতিবার ওই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
উল্লেখ্য, যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলাম সোহাগ ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ ঠিকাদারী ব্যবসা করতেন। এ নিয়ে স্থানীয় একটি চক্রের সাথে তার বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরে ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।

এই ঘটনায় সোহাগের বড় ভাই ফেরদাউস হোসেন সোমরাজ বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞানামা আরো ৫/৭ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলো, একই এলাকার গোলাম পট্টির ইয়াছিন মোহাম্মদ কাজল ও তার ভাই আমিরুল ইসলাম, সাগর, তরুণ, আলামিন, ডাবলু, শহরতলীর খোলাডাঙ্গার তাইজেল ও ধর্মতলার টিপু। এই মামলার অধিকাংশ আসামি পুলিশের হাতে আটক হয়। এর মধ্যে চারজনে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।
কিন্তুঅভিযোগ রয়েছে শরিফুল ইসলাম সোহাগ হত্যাকাণ্ডের দু’বছর পর এই মামলা নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত’ শুরু হয়। কুচক্রি একটি মহল মামলাটি নিয়ে ‘অপরাজনীতি’ শুরু করেন। চক্রটি তাদের ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বাস্তবায়নে তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানীকে ব্যবহার করেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে লিটন নামে একজনকে আটক করে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে দিয়ে ‘কল্পিত স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি আদায় করা হয়।

কল্পিত এই জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে ‘টাক মিলনের’ অফিসে বসে অন্ধকারে সোহাগকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ওই অফিসে টাক মিলন ছাড়াও তরুণ ব্যবসায়ী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও যুবলীগ নেতা তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু উপস্থিত ছিলেন। ষড়যন্ত্রমূলক এই জবানবন্দিকে পুঁজি করে ২০২০ সালের ২০ জুলাই ডিবি পুলিশের দেয়া চার্জশিটে ফন্টু চাকলাদারকে আসামি করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘নির্যাতন চালিয়ে একজনের এই কল্পিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়’ মূলত ওই চক্রটির অপরাজনীতির ফসল। স্থানীয়দের সুত্রে জানাগেছে, ফন্টু চাকলাদার কখনই তার নিজস্ব অফিস রেখে ‘টাক মিলনের’ অফিসে যান না। ফলে শরিফুল ইসলাম সোহাগ নামে কাউকে হত্যার পরিকল্পনা করার প্রশ্নই আসে না।
বরং অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যার মূল ঘটনাকে আড়াল করতে কুচক্রি মহলটি ফন্টু চাকলাদারকে নিয়ে গল্পের ফাঁদ তৈরি করেছে। এতে দু’টি স্বার্থ হাসিলের পথ তৈরি করেছে চক্রটি। এক. তরুণ ব্যবসায়ী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও যুবলীগ নেতা তৌহিদ চাকলাদার ফন্টুকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করা এবং সোহাগ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত খুনীদের আড়াল করা। এর মধ্যে দিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়েও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, এই মামলার ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ আসামি হলেও তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গত বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট ২০২২) আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।