উদীচী যশোরের শ্রাবণ সন্ধ্যা : মুগ্ধ সংস্কৃতিপ্রেমী যশোরবাসী

62
উদীচী যশোরের শ্রাবণ সন্ধ্যা : মুগ্ধ সংস্কৃতিপ্রেমী যশোরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ষড়ঋতুর দেশে এবছরে বর্ষাঋতু (আষাঢ়-শ্রাবণ) খাতা-কলমে বিদায় নিচ্ছে আর দু’দিন পরেই। বিদায়ের প্রাক্কালে আবহমান বাংলায় বর্ষার চিরায়ত রূপ তুলে ধরে যশোরে নাচ, গান, নৃত্য, ছড়া আর কবিতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা নিশীথযামিনী রে…’ শীর্ষক ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’।

উদীচী যশোরের নান্দনিক এ আয়োজন জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে শুক্রবার (১২ আগস্ট ২০২২) এ অনুষ্ঠান হয়। শৈল্পিক ও দৃষ্টিনন্দন মঞ্চে কদম ফুলের শোভাময় প্রকৃতি বর্ষার গানের সুর ব্যঞ্জনার পাশাপাশি বর্ণিল আলোক প্রক্ষেপণ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন একাডেমির মিলনায়তন ভর্তি সংস্কৃতিপ্রেমী যশোরবাসী।

শুরুতে ‘শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা…’, রবীন্দ্র সংগীতের সাথে সমবেত নৃত্যের পর সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্র সংগীত ‘নীল অঞ্জনঘন…’ এবং শিশুরা ‘আজি ঝরঝর মুখর বাদর দিনে…’ রবীন্দ্র সংগীতের সাথে পরিবেশন করে নৃত্য। এরপর সৃজিতা গেয়ে শোনান ‘শ্রাবণের ধারার মত…’, সুমন ও প্রিয়ন্তী গেয়ে শোনান ‘মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় …’।

আবারও সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্র সংগীত ‘গহন ঘন ছাইলো…’ পরিবেশনার পর উদীচীর শিশু- কিশোর বিভাগের শিক্ষার্থী শিল্পীরা পরিবেশন করে বৃন্দ আবৃত্তি ‘ছবির খাতা’, সমবেত কণ্ঠে ছড়াগান ‘মুক্ত মালার ছাতি মাথায়’ ও ‘হা রে রে রে’ রবীন্দ্র সংগীত। এরপর ‘মেঘের ডমরু ঘন বাজে…’ নজরুল সংগীতের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন জাহিদ ও শিপ্রা, ‘মোর ঘুম ঘোরে..’ ও ‘কে দুরন্ত বাজাও…’নজরুল সংগীত দুটি পরিবেশন করেন যথাক্রমে আদিতা ও সমৃদ্ধি। সমবেতকণ্ঠে পরিবেশিত হয় নজরুল সংগীত ‘বরষা ঋতু এলো- এলো বিজয়ীর সাজে; বাজে গুরু গুরু আনন্দ ডম্বরু অম্বর মাঝে…’।

এ গানের পর ‘শৈল মাছ খাইনা মুই বোয়াল মাছ না খাই মুই বোয়াল মাছের লম্বা লম্বা দাড়ি…’ লোকগানের সাথে শিশুরা নৃত্য পরিবেশন করে।

বর্ষা নিয়ে রচিত ‘বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি এ কোন অপরূপ সৃষ্টি, এতো মিষ্টি মিষ্টি মিষ্টি আমার হারিয়ে গেছে দৃষ্টি…’ ‘ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়ো না, ‘ এলো বরষা যে সহসা মনে তাই রিম ঝিম ঝিম, রিম ঝিম ঝিম গান গেয়ে যাই…’, ‘আকাশ এতো মেঘলা যেও নাকো একলা এখনি নামবে অন্ধকার ঝড়ের জল-তরঙ্গে…’, ‘আষাড়- শ্রাবণ মানে না তো মন…’, ‘আজ শ্রাবণের বাতাস বুকে…’, ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে…’, ‘তুমি এলে অনেক দিনের পরে…’ আধুনিক গানগুলি পরিবেশন করেন যথাক্রমে সামসুন্নাহার সরদার, সুমি, গোবিন্দ, তুর্যয়, কানিজ, সুব্রত দাস, মুস্তাহিদ হাসান ও শেখর কুমার নাথ।

এছাড়া ‘ধিম তানা- যাও বলো তারে মেঘের ওপারে বৃষ্টি বন্দনা জুড়ে ধরণীতল, যাও বল তারে শ্রাবণ আষাঢ়ে মেঘের শতদলে ছুঁয়েছে ভেজা জল…’ এবং ‘গুম গুম মেঘ ওই গরজায়…’ গানের সাথে পরিবেশিত হয় নৃত্য। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন কাজী শাহেদ নওয়াজ। ‘মেঘের পালক, চাঁদের নোলক কাগজের খেয়া ভাসছে…’ গানের সাথে সমবেত নৃত্যের মধ্য দিয়ে আসিফ নিপপনের গ্রন্থণায় সমাপ্ত হয় শ্রাবণ সন্ধ্যা।