শোকের আবহে যশোরে পবিত্র আশুরা পালিত

43
শোকের আবহে যশোরে পবিত্র আশুরা পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কারবালার প্রান্তরের শোকাবহ ঘটনার স্মরণে পবিত্র আশুরা পালন করেন মুসলিমেরা। বিশেষ করে শিয়া অনুসারীরা তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী দিনটি পালন করেছেন। যশোরে মঙ্গলবার (৯ আগস্ট ২০২২) সকাল সাড়ে ১০ টায় শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান থেকে তাজিয়া মিছিল শুরু হয়। রৌদ্রোজ্জ্বল শ্রাবণের আকাশে উষ্ণ-শুষ্ক গরমের মধ্যেই শিয়া মুসলমানরা তাজিয়া মিছিলে অংশ নেয়।

এ সময় আধাঘন্টার বৃষ্টিতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা কিছটা বাগড়া দিলেও বৃষ্টির মধ্যে ভিজে ভিজে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম ও বুক চাপড়ে ফোরাত নদীর তীরের কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণ করেন তারা। মিছিলকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ছিলো আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর। মিছিলটি মুড়লি ইমামবাড়া যেয়ে শেষ হয়।

মিছিলের মূল আয়োজন করে দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসীন ইমামবাড়া কার্যকরি সমন্বয় কমিটি। মিছিলে অংশ নেয় বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তরা। শিয়া মুসলমানদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এই তাজিয়া মিছিলে অংশ নেয়। মিছিলের সামনে ছিল ইমাম হাসান ও ইমাম হোসেনের দুটি প্রতীকী ঘোড়া, দ্বিতীয় ঘোড়ার জিন রক্তের লালে রাঙানো। তাজিয়া মিছিলে শোকের প্রতীক হিসেবে খালি পায়ে পুরুষরা কালো পাঞ্জাবি-পাজামা এবং নারীরা কালো কাপড় পরে মিছিল করেছেন। এছাড়া মাতমকারীদের সেবার জন্য নিয়োজিত ছিল স্বেচ্ছাসেবকরা। তাদের পানি ও শরবত বিতরণ করতে দেখা যায়। পবিত্র আশুরামিছিলে অংশ নেয়া আজিজ বিশ্বাস বলেন, শত শত বছর ধরে ইমাম হোসেন (রা.) শহিদ হওয়ার দিনটিতে তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। এই মিছিল মূলত শোক মিছিল। তার মৃত্যুতে শোক জানাতেই প্রতিবছর তাজিয়া মিছিলে অংশ নিই। রশ্মি আরা বলেন, আমি কেশবপুর থেকে এসে মিছিলে অংশ নিয়েছি। প্রতিবছর মিছিলে অংশ নিই। শোক জানাতে আমি আমার পরিবারসহ আসি এই তাজিয়া মিছিলে। শংকরপুরের বাসিন্দা নুরজাহান ইসলাম বলেন, আমি প্রথমবারের মতো এ তাজিয়া মিছিলে অংশ নিয়েছি আমার খুব ভালো লাগছে। আমি মূলত দেখার জন্য ও মিছিলে অংশ নিতে এসেছি।
দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসীন ইমামবাড়া কার্যকরি সমন্বয় কমিটির সভাপতি এহতেশামুল আনম জানান, তাজিয়া মিছিলের পর মুড়লি ইমামবাড়ায় মাসিহা, কারবালার উপর ফাজায়েল, মাসায়ের মাতুম ও মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর সুষ্ঠুভাবে তাজিয়া মিছিল সম্পন্ন করতে দা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি বহন নিষিদ্ধ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। সংগঠনটির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়ায় তারা দিনটি উদযাপন করতে পারছেন। তিনি বলেন, মুসলিম ধর্ম, সমাজ ও সংস্কৃতিতে মহরম, আশুরা ও কারবালা অতি ব্যাপক অর্থবোধক তিনটি পরিভাষা। ইসলামী মূল্যবোধে এ তিনটির প্রভাবও বেশ সুদূরপ্রসারী। মিছিলকে ঘিরে শহরজুড়ে নেয়া হয়েছিল প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোনো প্রকার নাশকতা ঠেকাতে দায়িত্ব পালন করছেন প্রশাসনের একাধিক টিম।
হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম মহানবি হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) কারবালার ফোরাত নদীর তীরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শাহাদতবরণ করেন। এই শোক ও স্মৃতিকে স্মরণ করে সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালন করা হয়।