‘খোড়া’ নান্নুসহ ৪জন আটক 

49
যশোরে সানু হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি রকি আটক, আদালতে দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরে দুই যুবককে অপহরণের পর আটকে রেখে চাঁদা দাবিতে মারপিট, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও ব্যাংক চেকের পাতায় স্বাক্ষর করে নেয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের ভগ্নিপতি মাসুদুর রহমান নান্নু ওরফে খোড়া নান্নুসহ চারজনকে আটক করেছে।

৮ আগস্ট ২০২২ বিকেলে নিউ মার্কেট শিশু হাসপাতালের সামনের এই ঘটনা বলে মামলা বাদি মনোহরপুর গ্রামের মাহাবুর রহমান ওহাব এজহারে উল্লেখ করেছেন। আটকের বিষয়টি কোতোয়ালি থানার এসআই খান মাইদুল ইসলাম রাজিব নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃত খোড়া নান্নু শহরের বারান্দী মোল্যাপাড়ার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে। অন্যরা হলো একই এলাকার মৃত জনাব আলীর ছেলে সেলিম মোল্যা, নুর ইসলামের ছেলে সুজন হোসেন ও সদর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের হারেজ আলী মোল্যার ছেলে ইন্তাজ আলী।
বাদী মাহাবুর মামলায় বলেছেন, বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের মিন্টু তার বিয়াই। মিন্টুর মাধ্যমে আসামি সুজন হোসেন চাকরি করতে সৌদি আরবে যায়। আড়াই মাস থাকার পরে সেখান থেকে সুজন দেশে ফিরে আসে। কিন্তু মিন্টুকে দেয়া টাকা ফেরতের জন্য বাদী মাহাবুরের মাধ্যমে আসতে বলে। না আসায় মিন্টুর বিরুদ্ধে সুজন থানায় জিডি করে।

৮ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মাহাবুর ও তার আরেক আত্মীয় রহমত আলী শহরের চৌরাস্তার ওয়ান ব্যাংক থেকে রিক্সায় যাওয়ার পথে নিউ মার্কেট শিশু হাসপাতালের সামনে পৌছানো মাত্র আসামিরা তাদের পথরোধ করে। এরপর সেখান থেকে অপহরণ করে নিয়ে আটক রাখে। এসময় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায় বিকাশের মাধ্যমে ৪৯ হাজার ৬৯৭ টাকা এনে দেয়। এরপর তার কাছে থাকা বেশ কয়টি ওয়ান ব্যাংক চেকের পাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এছাড়া দেড়শ’ টাকার সাদা স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরে মাহাবুরের আত্মীয় মিন্টুকে হাজির না করলে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তখন বাড়িতে ফোন করে। বাড়ির লোকজন থানা পুলিশকে জানায়। পুলিশ ওই চারজনকে আটক ও মাহাবুরসহ দুইজনকে উদ্ধার করে। এ সময় তাদের দেয়া ৫ হাজার টাকা, একটি স্ট্যাম্প ও কয়েকটি চেকের পাতা উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য আটক মাসুদুর রহমান নান্নু শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের ভগ্নিপতি। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বোমা, মাদকসহ ডজন খানেক মামলা রয়েছে।