আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ : যশোরে আরও ২৬২ পরিবার পেল মাথা গোঁজার ঠাঁই

1

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরে আরও ২৬২জন ভূমি ও গৃহহীন পেলেন মাথা গোঁজার ঠাঁই। যাদের মধ্যে কেউ থাকতেন অন্যের বাড়ি। কারও আশ্রয় ছিল ভাইয়ের বাসা। আবার কেউ থাকতেন ভাড়া বাসায়। জমি না থাকায় বাড়িঘর তৈরির স্বপ্নও দেখেনি তারা কোনদিন। এখন প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঘর ও জমি পেয়ে যারপরনাই খুশি তারা। নিজেরা সুখে থাকতে পারবেন বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

‘মুজিবর্ষে কেউ ভূমি ও গৃহহীন থাকবেন’ প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এ নিয়ে যশোর জেলার এ পর্যন্ত এক হাজার ৭৬১ জন ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পরিবারপ্রতি দুই শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান পূর্বক ঘর প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘরের দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

১ম পর্যায়ে প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ছিল ১লাখ ৭১ হাজার টাকা, ২য় পর্যায়ে প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৯০হাজার টাকা এবং ৩য় পর্যায়ে প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ২ লাখ ৫৯হাজার ৫০০ টাকা।

এরআগে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় যশোরের এক হাজার ১৮১ এবং তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে গত ২৬ এপ্রিল ৩১৮টিসহ মোট একহাজার ৪৯৯টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে নতুন ঘর প্রদান করা হয়।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে ২৬২টি পরিবারের মাঝে বাঘারপাড়ায় ২৫, অভয়নগরে ৫, মণিরামপুরে ৩৪, কেশবপুরে ১৩, ঝিকরগাছায় ৯২, চৌগাছায় ৩৮ ও শার্শায় ৫৫টি পরিবারের মাঝে নতুন গৃহ দেয়া হয়।

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, কেশবপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় তৃতীয় পর্যায়ে (দ্বিতীয় ধাপে) প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছে ১৩টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। এদিন সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ২২৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের হাতে জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন। তারই অংশ হিসেবে কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ১৩টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের হাতে জমির দলিল ও ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান।

সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এমএম আরাফাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তপন কুমার ঘোষ মন্টু। সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুজ্জামান।

উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুরাজ সরকার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল জব্বার সরদার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আলমগীর হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার পুলোক কুমার সিকদার, উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম মেল্ল্যা, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সজীব সাহা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার রূপালী রানী, কেশবপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, কেশবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস আর সাঈদ, ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আনিছুর রহমান, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত, মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির পলাশ, বিদ্যান্দকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বিশ্বাস, কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আলাউদ্দীন আলা, পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন, সুফলাকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মুনজুর রহমান, হাসানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুজ্জামান তৌহিদ সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, রাজনৈতিকবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ।

উল্লেখ্য, কেশবপুর উপজেলায় ১ম ও ২য় পর্যায়ে ১৭১টি গৃহ নির্মাণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে শতভাগ গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

ঝিকরগাছা পৌর প্রতিনিধি জানান, এদিন প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঝিকরগাছায় ৯২ পরিবারের মাঝে জমি ও ঘর দেয়া হয়েছে। এ সময় দুই শতক জমির দলিল, নামজারির খতিয়ানসহ সুদৃশ্য লাল রঙের টিনের ছাউনিযুক্ত দুই কক্ষ বিশিষ্ট থাকার ঘর, রান্নাঘর, নিরাপদ টয়লেট ও ইউটিলিটি স্পেস হস্তান্তর করা হয়।

এ উপলক্ষে জমি ও গৃহ প্রদান অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের জন্য ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম, পৌর মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল।

এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল হক। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. কাজী নাজিব হাসান, পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম রেজা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুবনা তাক্ষী, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন ভক্তসহ উপজেলার পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের দলীয় নেতৃবৃন্দ।
আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় তৃতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে যশোরের ঝিকরগাছায় এই ৯২টি ঘর ও জমি দেয়া হয়। উল্লেখ্য, ঝিকরগাছায় এরআগে প্রথম পর্যায়ে ৩৩টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৩টি, তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে ৪১টি, এবং বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ধাপে ৯২টিসহ সর্বমোট ১৭৯ ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর দেয়া হলো।

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি জানান, যশোরের বাঘারপাড়ায় নতুন করে ২৫ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার জমিসহ নতুন ঘর পেয়েছেন।
এদিন সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সংক্রান্ত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনম আবুজর গিফারী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তুষার কুমার পাল, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মোল্যা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিথীকা বিশ্বাস, পৌর মেয়র কামরুজ্জামান বাচ্চু, ওসি (তদন্ত) মকবুল হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, সুবিধাভোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

চৌগাছার নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, যশোরের চৌগাছা উপজেলায় নতুন করে ৩৮ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার জমিসহ নতুন ঘর পেয়েছেন।
এদিন সকালে চৌগাছা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান।

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা, সহকারী কমিশনার ভূমি গুজ্ঞন বিশ্বাস, উপজেলা প্রকৌশলী রিয়াসাত ইমতিয়াজ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, ইউপি চেয়াম্যান নরুল কদর প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ৩৮ টি গৃহপ্রাপ্ত সদস্যদের চোখে-মুখে ছিল আনন্দ-হাসি আর উল্লাস। তারা এই ঘর পেয়ে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনসহ তার পরিবারের জন্য দোয়া করেন।