যশোরে চার্জার ফ্যান সংকট 

1

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বৃষ্টিহীন শ্রাবণে গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন। এরসাথে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। গরম ও লোডশেডিং থেকে বাঁচতে বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছে মানুষ। আর এতে করে চাহিদা বেড়ে গেছে চার্জার ফ্যান, লাইট, আইপিএস ও সোলারের মতো যন্ত্রগুলোর। সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের শুধু দাম বাড়ায়নি কৃত্রিম সংকটও সৃষ্টি করেছে।

যশোরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি চার্জার বা সোলার ফ্যানের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। অনেক ক্ষেত্রে বেশি দাম দিয়েও মিলছে না কাক্সিক্ষত ফ্যান। তাই অনেকে বাধ্য হয়েই তাদের ব্যবহারিত পুরোনো চার্জার ফ্যানের নতুন ব্যাটারি লাগিয়ে সচল করে নিচ্ছে। যশোর শহরের মাইকপট্টি, লালদিঘিরপাড়, চিত্রামোড়, নিউমার্কেট বাজার সরেজমিনে দেখা যায়, হঠাৎ করেই চাহিদার কারণে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে সোলার ও চার্জার ফ্যানের। তবে চাহিদা অনুযায়ী ফ্যান যোগানে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। ফুরিয়ে গেছে বেশির ভাগ দোকানে স্টকে থাকা ফ্যান। সুযোগ বুঝে বাড়তি দামে ফ্যান বিক্রি করছেন অনেক ব্যবসায়ী। অন্যদিকে ক্রেতারা বেশি দাম দিয়ে চার্জার ফ্যান কিনতে না পারায় তাদের পুরানো ফেলে রাখা ফ্যান সার্ভিসিং করিয়ে নিচ্ছেন।

মাইকপট্টি টেলিফোন ভবনের গায়ে সম্রাট ইলেক্ট্রিকের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান বলেন, যশোরে লোডশেডিংয়ের কারণে দাম বেড়েছে চার্জার ফ্যানের। অনেকে বেশি দাম দিয়েও ফ্যান কিনতে পারছেন না। তাই পুরানো বা বাদ দেয়া চার্জার ফ্যান সার্ভিসিংয়ের জন্য নিয়ে যাচ্ছে।

কথা হয় খড়কির রাজমিস্ত্রি আফজাল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, স্ত্রী ও তিন মেয়ে নাতি নিয়ে সংসার। বড় মেয়ের ডিভোর্স হয়েছে। তার একটা বাচ্চা আছে। নাতিটা গরমে থাকতে পারছে না। তাই পুরানো একটা চার্জার ফ্যান কিনেছি। সেই ফ্যানের নতুন ব্যাটারি লাগাচ্ছি।’
লালদীঘি পাড়ের আবেদ আলী সুপার মার্কেটে চার্জার ফ্যান কিনতে আসা শরিফুল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। তাই চার্জার ফ্যান কিনতে বাজারে আসছি। কয়েকটা দোকান ঘুরেও কাক্সিক্ষত ফ্যান পেলাম না। যা পেয়েছি তা আবার ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দাম বেশি বলছে।

এই মার্কেটের অজয় ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী অজয় সিংহ রায় বলেন, আমার দোকানে খুব বেশি চার্জার ফ্যান নেই। যে কয়টা আছে সেগুলো বেশি দামের। লোডশেডিংয়ের কারণে চার্জার ফ্যানের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী ডেলিভারি নেই। ঢাকায় যাদের কাছে অর্ডার করি, তাদের স্টকে খুব বেশি মাল নেই বলে জানাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু চার্জার ফ্যান না, চার্জিং সবকিছুর দাম বেড়েছে। এমআরপি রেটে আমাদের অর্ডার করতে হচ্ছে। তবুও ফ্যান পাওয়া যাচ্ছে না।
একই এলাকার সানজীদা ইলেকট্রনিক্স এর স্বত্বাধিকারী দিলদার পারভেজ বলেন, সপ্তাহ খানেক ধরে শুধু চার্জার ফ্যান, টেবিল ল্যাম্প, রিচার্জেবল বাল্ব জাতীয় সবকিছুর চাহিদা বেড়েছে। আর দাম তো ঈদের ১৫-২০ দিন আগে থেকেই বেড়েছে। প্রতিটি পণ্যের দাম গড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বেশি হয়েছে।

এ সময় ফ্যানের খোঁজে বাজারে আসা আরিফ মাহমুদ বলেন, কয়েক দোকানে ফ্যান খুঁজেও পেলাম না। সবাই বলছে শেষ হয়ে গেছে। এদিকেও লোডশেডিংয়ে বাসায় থাকা দায়। ছোট বাচ্চা নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। তাই ফ্যান ছাড়া বাসাতেও যেতে পারছি না।

এদিকে লোডশেডিংকে ঘিরে চার্জার ফ্যান ও লাইটের দাম মনিটরিং করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। প্রতিষ্ঠানের যশোর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, সরকারের গৃহীত লোডশেডিং সিদ্ধান্তকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চার্জার ফ্যান বা চার্জার জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে পারে বলে তথ্য ছিল। সেই অনুযায়ী আমরা বিষয়টি তদারকি করেছি। এছাড়াও আমরা ইলেকট্রনিক্স ব্যবাসয়ী সমিতি নেতাদের সতর্ক করেছি।’