আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প : যশোরের আরও ২৬২টি পরিবার পাচ্ছে মাথা গোঁজার ঠাঁই 

1

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরে আরও ২৬২জন ভূমি ও গৃহহীন পাচ্ছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে যশোরের সদর উপজেলা বাদে সাত উপজেলায় ২৬২ পরিবারের মাঝে ২৬২টি নতুন গৃহ দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে দুই শতক জমির দলিলসহ গৃহ দেয়া হবে।

মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘অমিত্রাক্ষর’ এ অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ২১ জুলাই সকাল ১০টায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় পর্যায়ে (২য় ধাপ) গৃহসমূহ উপকারভোগী পরিবারের নিকট হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ উদ্বোধন বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দের সাথে মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান জানান, ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভূমিহীন ও গৃহহীন (ক শ্রেণি) পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প থেকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হচ্ছে এবং বন্দোবস্তকৃত খাস জমিতে ৪০০ বর্গফুট আয়তনের ২ কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা একক গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। নির্মিত ঘরে সুপরিসর ২টি কক্ষের সামনে টানা বারান্দা এবং পেছনে রয়েছে রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি পুনর্বাসিতদের জন্য রয়েছে নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা।

তিনি জানান, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় আগামীতে যশোর সদর, কেশবপুর, মণিরামপুর, চৌগাছা, বাঘারপাড়া, ঝিকরগাছা, শার্শা ও অভয়নগর উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত করা হবে। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রকৃত ভূমি ও গৃহহীন যাচাই-বাছাই চলছে। গৃহহীন কেউ থাকবে না।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে ২৬২টি পরিবারের মাঝে বাঘারপাড়ায় ২৫, অভয়নগরে ৫, মণিরামপুরে ৩৪, কেশবপুরে ১৩, ঝিকরগাছায় ৯২, চৌগাছায় ৩৮ ও শার্শায় ৫৫টি পরিবারের মাঝে নতুন গৃহ দেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান এ সময় বলেন, সরকার যে জমিসহ ঘরগুলো মানুষকে দিচ্ছে; সেই জমি সরকারের। সরকারের এ জমি কারও না কারও অপদখলে ছিল। অপদখলকারীদের উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে নানা আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেই জমিতে ঘর নির্মাণ করে তা জমি ও গৃহহীনদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারি খাস জমি অপদখলকারীদের কাছ থেকে দখলমুক্ত করার বিষয়টা এত সহজ ছিল না। এ জমিগুলো যার দখলে ছিল সেতো এত সহজে ছাড়তে চাইবে না; এটাই স্বাভাবিক। আমরা সরকারের খাস জমি দখলমুক্ত করেছি; এটা সাফল্যের আর একটা দিক। সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং সেই দখলমুক্ত জমিতে ভূমি ও গৃহহীনদের মাঝে বণ্টন করা হচ্ছে। যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এক অনন্য দুরদর্শিতা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তুষার কুমার পাল, প্রেসক্লাব যশোরের সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার সাজেদ রহমান বকুলসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

উল্লেখ্য, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় এক হাজার ১৮১ এবং তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপে গত ২৬ এপ্রিল ৩১৮টিসহ মোট একহাজার ৪৯৯টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে নতুন ঘর প্রদান করা হয়।