যশোরে উদ্ধার হওয়া ‘কঙ্কালের’ হত্যারহস্য উদ্ঘাটন পিবিআইয়ের 

1

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরে উদ্ধার হওয়া ‘কঙ্কালের’ হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি অটোরিক্সা চালক চালক বিল্লাল হোসেন মিয়াদ’র শনাক্ত হওয়ার পর দুই ‘হত্যাকারী’কে আটক ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং লুট করা অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক দুই ‘হত্যাকারী’ আব্দুল কাদের শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়া কাঁঠালতলা এলাকার তোতা মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া জাহিদুল ইসলাম মিঠুর ছেলে এবং জুয়েল শেখ একই এলাকার তিতাসের বাড়ির ভাড়াটিয়া ইউনুস আলীর ছেলে। নিহত বিল্লাল হোসেন মিয়াদের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ছোট বাদুড়া গ্রামে হলেও ১১ বছর আগে বিয়ে করে যশোর সদরের পাগলাদাহ গ্রামে বসবাস করতেন।

আটককৃতরা স্বীকার করেছে, অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের উদ্দেশে চালক বিল্লাল হোসেন মিয়াদকে কৌশলে ডেকে নিয়ে খিতিবদিয়া ষোল বিঘা মাঠের শ্বাসরোধ এবং গলাকেটে হত্যা করা হয়।

রোববার আসামি আব্দুল কাদের ও জুয়েল হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জবানবন্দি শেষে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।

যশোর পুলিশ ব্যুরো ইব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’ এসআই স্নেহাশিস দাস জানিয়েছেন, অটো রিক্সা চালক বিল্লাল হোসেন মিয়াদ ২১ জুন দুপুরের দিকে রিক্সায় যাত্রী নিয়ে পুরাতন কসবা এলাকায় যান। আব্দুল কাদের ওই সময়ে বিল্লালের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন নাম্বার নেন। সন্ধ্যায় কাদের তাকে ফোন করে কাঁঠালতলায় দেখা করতে বলেন। কাদের ও জুয়েল সেখান থেকে ‘ নারীর সঙ্গে অনৈতিক মেলামেশার’ প্রস্তাব দিয়ে বিল্লালকে সাথে নিয়ে খিতিবদিয়া গ্রামে জুয়েলের বোনের বাড়িতে যান। ওই বাড়িতে রিক্সা রেখে তিনজনে ষোল বিঘা মাঠের মধ্যে রেজাউল সরদারের মেহগনি বাগানে গিয়ে ইয়াবা সেবন করেন।
এরই মধ্যে জুয়েল বিল্লালের গলায় দড়ি জড়িয়ে দেন। পরে জুয়েল ও কাদের দড়ি টেনে ধরে। বিল্লাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে গামছা দিয়ে তার হাত ও পা বেঁধে ফেলেন। কাদের কোমরে থাকা ছুরি দিয়ে বিল্লালের বুকে আঘাত করেন। পরে কাদেরের কাছ থেকে ওই ছুরি নিয়ে জুয়েল তার গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। বাগানের মধ্যে বিল্লালের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি পাশে একটি পাট ক্ষেতে ফেলে রিক্সাটি নিয়ে কাদের বোনের বাড়ি শহরতলীর শেখহাটি জামরুলতলা রেখে আসেন। কাদেরের বোনকে বলা হয়, রিক্সাটি জুয়েলের; সে বিক্রি করবে। এরপর ওই রিক্সা থেকে ব্যাটারি খুলে নিয়ে ৮ হাজার ১৫০ টাকায় ঘোপ জেল রোডের এক ব্যক্তির কাছে এবং রিক্সার বডি শেখহাটি এলাকার একজনের কাছে বিক্রি করেন।
এদিকে ২১ জুন সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় বিভিন্নস্থানে খোঁজখবর নিয়ে সন্ধান না পেয়ে পরদিন ২২ জুন বিল্লালের শাশুড়ি বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে ২৭ জুন পিবিআই’র এসআই ডিএম নুর জামাল চুড়ামনকাটি এলাকার একটি পাট ক্ষেত থেকে বিল্লালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেন। পরে ৩ জুলাই খিতিবদিয়া গ্রামের ষোল বিঘার মাঠ থেকে বিল্লালের কংকাল উদ্ধার করে পুলিশ। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, লাশটি ১০ থেকে ১৫ দিন আগের ছিল।
এরপর তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্রথমে কাদের এবং জুয়েলকে আটক করে পিবিআই। তারা দু’জন বিল্লালকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের কাছে স্বীকার করে। এরপর তাদের দেখানো মতে বিল্লালকে হত্যাকাজে ব্যবহৃত ছুরি এবং ব্যাটারি ও রিক্সা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার গত ১৬ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা করেছিলেন। রোববার আদালতে হাজির করা হলে আটক দু’জন রিক্সা ও ব্যাটারির লোভে বিল্লালকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।