স্ত্রী-সন্তানদের খুনের নৃশংস বর্ণনা দিল বাবু 

1

নিজস্ব প্রতিবেদক :
‘প্রথমে স্ত্রী ও বড় মেয়ের গলা টিপে ধরি। ধস্তাধস্তি দেখে ছোট মেয়েটি চিৎকার শুরু করে। পরে গামছা দিয়ে ছোট মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করি’ এভাবে আদালতে খুনের নৃশংসতার বর্ননা দেয় করে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা করে পুলিশে ধরা দেয়া জহিরুল ইসলাম বাবু। শনিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা বসু এ জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি আরও জানিয়েছেন পারিবারিক কলহের জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। জহিরুল ইসলাম বাবু সদরের জগন্নাথপুর গ্রামের বিশ্বাসপাড়ার মশিউর রহমান বিশ্বাসের ছেলে। এর আগে, শুক্রবার মধ্যরাতে নিহত সাবিনা ইয়াসমিন বীথির বাবা বাদী হয়ে জহুরুল ইসলাম বিশ্বাস ওরফে বাবুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। শনিবার দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে তিনজনের ময়নাতদন্ত শেষে এদিন সন্ধ্যায় অভয়নগর উপজেলায় নিহত সাবিনার বাবার বাড়ি সিদ্ধিপাশাতে তিনজনের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
জহিরুল ইসলাম বাবু জবানবন্দিতে আরও জানিয়েছেন, সে পেশায় একজন রড মিস্ত্রী ও মাদকসেবী। সে অভয়নগরের সিদ্ধিপাশা গ্রামের শেখ মুজিবর রহমানের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বিথীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে বিথীর সাথে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ চলছিল। বিথী তার পিতার বাড়িতে থাকতে পছন্দ করত। আড়াই মাস আগে বিথী তার দুই মেয়ে নিয়ে পিতার বাড়ি চলে গেছে। অনিচ্ছা সত্তেও জহিরুল মাঝে মধ্যে তার শ্বশুর বাড়ি যেয়ে থাকতে হতো। এনিয়ে সংসারে চরম অশান্তি চলছিল। শুক্রবার দুপুরে স্ত্রী ও দুই মেয়ে জহিরুল তার বাড়ির উদ্দ্যেশে শ্বশুর বাড়ি থেকে রওনা হয়। পথে বিথীর সাথে জহিরুলের পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ড হয়। এরমথ্যে স্ত্রী ও বড় মেয়ের গলা চেপে ধরলে ছোট মেয়ে চিৎকার করছিল। এরপর তিনজনের গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে জানিয়েছে জহিরুল ইসলাম।
শুক্রবার মধ্যরাতে নিহতের বাবা শেখ মুজিবর রহমান বাদি হয়ে আটক জহুরুল ইসলাম বিশ্বাস ওরফে বাবুর বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শনিবার (১৬ জুলাই) সকালে নিহত সাবিনা ইয়াসমিন বীথির বাবা শেখ মুজিবর রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি আরো জানান, বিয়ের পর থেকে জহুরুল শ্বশুরের কাছে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে সে তার স্ত্রী ও সন্তানদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালালো।
মেয়ে ও দুই নাতির সুখের কথা চিন্তা করে গত ২০২১ সালের ২২ জুন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেন শ্বশুর শেখ মুজিবর রহমান। এরপর আরো টাকা চাইলে সাবিনা তার দুই মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (৯) ও সাফিয়া আক্তারকে (২) সঙ্গে নিয়ে পিতার বাড়িতে চলে আসে।
এদিকে একসঙ্গে তিনটি প্রাণ নৃশংস ভাবে স্বামী বা পিতার কাছে হত্যার শিকার হওয়ায় ঘটনায় দুই পরিবারের চলছে শোকের মাতম। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় বুকফাটা কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নিহত সাবিনার শুশুর বাড়ি ও বাবার বাড়িতে। দুই পরিবারের স্বজনদের কান্না দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও। একসঙ্গে মেয়ে ও নাতনির এভাবে চলে যাওয়ায় বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন সাবিনার বাবা শেখ মুজিবর রহমান।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শামীম হাসান বলেন, আটক জহুরুলকে শনিবার যশোর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে নৃশংস হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে। শনিবার সন্ধ্যায় নিহত সাবিনার বাবার বাড়ি সিদ্ধিপাশাতে তিনজনের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।