যশোরে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টা, আটক ১ 

1

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে মিজানুর রহমান নামে এক দুর্বৃত্তকে আটক করা হয়েছে। যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বৃহস্পতিবার ভোরে সদর উপজেলার বড় মেঘলা গ্রামস্থ যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক থেকে তাকে আটক করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বপন কুমার সরকার কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।
এ দিনই আটক মিজানুর রহমান আদালতে সোপর্দ করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
আটক মিজানুর রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার উজ্জলপুর গ্রামের মৃত মোজাহার মন্ডলের ছেলে। বর্তমানে তিনি যশোরের নতুন খয়েরতলার হর্টিকালচার লিজেন্ড গ্রামার স্কুলের পেছন এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন।
ডিবি পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, আটক মিজানুর রহমান ও তার কয়েকজন সহযোগী দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ পরিচয়ে সোনা চোরাচালানী ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের অপহরণ, ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছেন। এই কাজের জন্য তারা প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, হ্যান্ডকাপ ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করে থাকেন। বৃহস্পতিবার ভোরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের বড় মেঘলায় বাস থামিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী স্বপন কুমার সরকার বাদী হয়ে আটক মিজানুর রহমানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন, যশোরের পালবাড়ির মসজিদ গলি এলাকার ভাড়াটিয়া আবু তালেব (৫২), চৌগাছা উপজেলার সলুয়া-আফরার গ্রামের মোড় এলাকার প্রাইভেটকার চালক কাজল মিয়া ওরফে মাসুদ (৪৮) এবং শার্শা উপজেলার নাভারণ এলাকার হাসান (৩৫) ও বাদশা (২৮)।
ভুক্তভোগী স্বপন কুমার সরকার সাতক্ষীরার মধুমল্লারডাঙ্গী গ্রামের মৃত অনীল চন্দ্র সরকারের ছেলে।
মামলায় তিনি বলেছেন, সহযোগি শামীম হোসেনকে সাথে নিয়ে ব্যবসায়ীক কাজের জন্য ৪ জুলাই ঢাকা ও চট্টগ্রামের সেন্টমার্টিনে যান। কাজ শেষে ঢাকায় ফিরে আসেন। এরপর বুধবার রাত ১০টার দিকে ঢাকার শ্যামলী থেকে সাতক্ষীরায় যাওয়ার জন্য তারা দুইজনে (ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-১৯১৫) একটি বাসে ওঠেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে বাসটি যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের বড় মেঘলা গ্রামস্থ দরগাহ ফিলিং স্টেশনের পূর্ব পাশে পৌঁছালে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটাকার ও ২টি মোটরসাইকেলে থাকা ৭/৮ জন পুলিশ পরিচয়ে বাসটি থামায়। এদের মধ্যে ৩ জন বাসের মধ্যে ঢুকে পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশি শুরু করে।
এ সময় তারা স্বপন কুমার সরকারকে দেখে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে মর্মে আটক এবং বাস থেকে নামিয়ে নেন। তার সহযোগী শামীম হোসেন বিষয়টি দেখে বাস থেকে নামলে তাকেও আটক করে ওই প্রতারকরা। এ সময় পুলিশ পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের কাছে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাপ ছিল। তারা কথা আছে বলে স্বপন কুমার সরকারকে তাদের প্রাইভেটকারে তোলার চেষ্টাকালে তিনি ওয়ারেন্ট ও আইডি কার্ড দেখতে চান। এ সময় ওই ডাকাতরা তাদের মারধর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে এরই মধ্যে আকস্মিক সেখানে ডিবি পুলিশের একটি টিম আসে। সাথে সাথে পুলিশ পরিচয়দানকারী প্রতারকরা অন্যরা দ্রুত প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে পালিয়ে যান। তবে মিজানুর রহমান নামে একজন পালাতে না পারায় তাকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার আটক মিজানুর রহমানকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।