যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ শতবর্ষী গাছ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন 

1

ঝিকরগাছা পৌর প্রতিনিধি :
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ শতবর্ষী গাছ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে যশোর ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি বাজারে নাগরিক আন্দোলন যশোর ও সেবা সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন সামাজিক সংগঠন ‘সেবা’র সভাপতি আশরাফুজ্জামান বাবু।  মানববন্ধনে ১২টি সামাজিক সংগঠনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য ছাড়াও স্থানীয়রাও অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলোর কারণে এ রাস্তায় আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। যার কারণে সরকার রাজস্ব হারাতে বসেছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে এই পথে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক চলাচল করে। ঝুঁকিপূর্ণ গাছের জন্য তাদের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং একইসাথে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই সড়কটি সম্প্রসারণ করা না হলে যশোর অঞ্চলে ব্যবসার প্রসার ঘটবে না। সেইসাথে পদ্মা সেতুর পূর্ণাঙ্গ সুবিধাও ভোগ করতে পারবে না এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়ে ইতোমধ্যে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে অবিলম্বে এসব গাছ অপসারণের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় আগামীতে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন যশোর নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক মাস্টার নূরজালাল, সমন্বয়ক মাসুদুজ্জামান মিঠু, ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র পরিচালক মতিয়ার রহমান, নাগরিক আন্দোলন অধিকারের যশোরের সদস্য আহসান উল্লাহ ময়না, বাংলাদেশ ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ঝিকরগাছা শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেন, গদখালি বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক উজ্জল হোসেন, পানিসারা গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মীর বাবরজান বরুন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মানুষ মানুষের জন্য’র সভাপতি সায়েদ আলী, মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাস্ট গদখালী শাখার সভাপতি ইমামুল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বন্ধন’র আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

এদিকে, ঐতিহাসিক যশোর রোডকে (যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক) চার লেনে উন্নীত প্রক্রিয়ায় সড়কের দুই পাশের দু’হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে যশোর রোডের স্মৃতি বিজড়িত কয়েকশ’ শতবর্ষী রেইনট্রি গাছও ছিল। কিন্তু পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের মুখে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত আটকে যায়। ২০১৮ সালে এ নিয়ে হাইকোর্টে রিটও হয়। তারপর থেকে গাছগুলো নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের জুন মাসে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুই ধারে মরা শতবর্ষী ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো জরুরি ভিত্তিতে অপসারণের অনুরোধ করেছেন শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসন।

তবে হাইকোর্টে এ-সংক্রান্ত রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সমাধান মিলছে না বলে জানা গেছে। সম্প্রতি শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নারায়ণ চন্দ্র পাল ও ঝিকরগাছা ইউএনও মাহবুবুল হক আইনি প্রক্রিয়ায় গাছগুলো অপসারণের অনুরোধ জানিয়ে যশোর জেলা প্রশাসককে আলাদা দুটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দুই পাশে শতবর্ষী বেশ কিছু মরা রেইনট্রি রয়েছে। এশিয়ান হাইওয়ে নামে ওই মহাসড়ক দিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার পণ্যবাহী ট্রাক ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। এ ছাড়া আম্পানসহ ঘূর্ণিঝড়ে বেশ কয়েকটি গাছ মহাসড়কের পাশে উপড়ে পড়ে আছে। বিভিন্ন সময় উপড়ে পড়া এসব গাছ আজও অপসারণ করা হয়নি।

একইসঙ্গে ঝিকরগাছা উপজেলা মোড় থেকে শার্শা বাজার পর্যন্ত জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মরা গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করা যান ও যাত্রীসহ এলাকার মানুষরা আতঙ্কে রয়েছেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে গাছগুলো অপসারণ না করলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে যশোর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উজ জামান বলেন, ‘শার্শা ও ঝিকরগাছা ইউএনওর চিঠি আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছি। হাইকোর্টে মামলার রায়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি। রায় পেলেই সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।’