যশোরে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই হাসপাতাল-ক্লিনিকে

1
যশোর শহরে অধিকাংশ ক্লিনিক পাশাপাশি হওয়ার কারণে আগুনের ঝুঁকি বেশি। একটিতে আগুন লাগলেই মুহূর্তের মধ্যে অন্য প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়বে।’

এস হাসমী সাজু : যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে নেই পর্যাপ্ত পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক ও দক্ষ জনবল। যে দু’একটি প্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা রয়েছে তাও নি¤œমানের। এ ছাড়াও সেগুলো বছরের পর বছর পরীক্ষা করা হয় না। ফলে বলা যায়, জেলার সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের আগুন নেভানোর ব্যবস্থা নেই ।
যশোর শহরের সরকারি হাসপাতাল, সিভিল সার্জন অফিস এবং ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, যশোর জেনারেল হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, সিভিল সার্জন অফিস, শহরের ল্যাবস্ক্যান, ঝর্ণা ক্লিনিক, জনতা, কুইন্স, দড়াটানা, একতা ও কিংস হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অগ্নিনির্বাপক বলতে আছে হ্যান্ড স্প্রে সিলিন্ডার। তাও অধিকাংশ ক্লিনিকের মেয়াদ শেষ; মাত্র কয়েকটিতে এক অথবা দু’মাস মেয়াদ আছে। শহরের নোভা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পঙ্গু হাসপাতাল, ঢাকা হতে পরিচালিত যশোরের ল্যাব এইড, ইবনে সিনা হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেকটর ও হোস পাইপসহ উন্নত মেশিনারিজ থাকলেও তাদের নেই দক্ষকর্মী।
অপরদিকে, যশোর জেনারেল হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে অগ্নিনির্বাপক হ্যান্ড স্প্রে সিলিন্ডার থাকলেও তার মেয়াদ আজ ২৮ জুন শেষ হতে চলেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্নিনির্বাপণকর্মী, ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেকটর ও হোসপাইপসহ উন্নত মেশিনারিজ নেই। ফলে বলা যায়, বড় ধরনের আগুন নেভানোর ব্যবস্থা নেই জেলার সরকারি ও বেসরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের দেয়া তথ্যমতে, যশোর জেনারেল হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, সিভিল সার্জন অফিস, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও আট উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ যশোর জেলায় মোট ২শ ৮৯টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু রয়েছে। এছাড়া ১৬টি নতুন প্রতিষ্ঠান আবেদিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এই সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাদে হাতে গোনা ১০/১১টি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা আছে। বাকি গুলোতে কোনো ব্যবস্থা নেই, নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক স্প্রে সিলিন্ডার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যশোর শহরে অধিকাংশ ক্লিনিক পাশাপাশি হওয়ার কারণে আগুনের ঝুকি বেশি। একটিতে আগুন লাগলেই মুহূর্তের মধ্যে অন্য প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি হাসপাতালসহ বেশ কিছু ক্লিনিকে গত বছর আগুন ধরার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল ক্লিনিকে অগ্নিনির্বাপক না থাকায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেনি।
ঢাকা হতে পরিচালিত যশোরের ইবনে সিনা হসপিটাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারের সিনিয়র ম্যানেজার (এডমিন) মুজাহিদুল ইসলাম নাভিদ জানিয়েছেন, শহরের অন্য প্রতিষ্ঠানে ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেকটর ও হোসপাইপ আছে কি না তা জানি না। তবে ইবনে সিনা প্রতিষ্ঠানে উন্নত মেশিনারিজ ও প্রশিক্ষিত দক্ষকর্মী আছে। প্রতিবছর তাদেরকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
যশোর সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, জেলার সকল সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, দ্রুত আগুন নেভানোর কর্মী নেই। এছাড়াও দু’একটি ক্লিনিক বাদে সকল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেকটর ও হোসপাইপসহ উন্নত মেশিনারিজ নেই। তিনি আরও বলেন, জেলার ক্লিনিক ও সরকারি হাসপাতালগুলোতে অগ্নিনির্বাপক বলতে আছে হ্যান্ড স্প্রে সিলিন্ডার। যশোর ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপক ১০টি সিলিন্ডার আছে। কিন্তু ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেকটর ও হোস পাইপসহ উন্নত মেশিনারিজ নেই। এছাড়াও হাসপাতালে স্প্রে সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষের দিকে। নতুন করে সিলিন্ডার চেঞ্জ করার জন্য ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্তাদের জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে অতি দ্রুত তারা মেয়াদ সম্বলিত অগ্নিনির্বাপক হ্যান্ড স্প্রে সিলিন্ডার দিয়ে যাবে।