যশোর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী জামিনে মুক্ত

2

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিল, মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা যুবলীগনেতা রওশন ইকবাল শাহী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। রোববার বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাইমুর ইসলাম রিয়াদ হত্যা মামলায় শাহীকে আটক করে র‌্যাব। তবে শাহী’র স্বজনদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে ওই মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে। এদিকে, রওশন ইকবাল শাহীর মুক্তির খবরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। দুপুর থেকেই যশোর কারাগারের গেটে ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিকেলে শাহী মুক্ত পাওয়ার পর দুই সহস্রাধিক নেতাকর্মী শহরে আনন্দ মিছিল করেন। পরে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সব শেষে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় যশোর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপু বলেন, একটি মিথ্যা মামলায় যশোরের ছাত্রসমাজের নয়নমণি রওশন ইকবাল শাহী কারাভোগ করেছে। আজকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সেই মিথ্যা মামলা থেকে সে জামিন পেয়েছে। এরই মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে শাহী কোনো অন্যায় করেনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীরা কখনো অন্যায় করতে পারে না। আমরা রাজনীতি করতে এসেছি; আমাদের জেল খাটতে হবে সেটা স্বাভাবিক। বিএনপির আমলে আমরা অনেকবার জেল খেটেছি। তবে বিনা কারণে বঙ্গবন্ধুর কোনো কর্মী কারাভোগ করবে সেটা মেনে নেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগের মধ্যে লুকিয়ে থাকা কিছু অনুপ্রবেশকারী নেতাকর্মী রয়েছে; তারা নিজেদের ফায়দা লুটতে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। সেই ষড়যন্ত্রের শিকার এই শাহী। শাহী শুধু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী না; যশোরের ছাত্র ও যুবসমাজের আদর্শের প্রতীক। শাহী ফিরে আসার মধ্যে দিয়ে যশোরের যুবসমাজের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।
সত্যের বিজয় হয়েছে উল্লেখ করে রওশন ইকবাল শাহী বলেন, আমি রাজনীতি করি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে। হত্যা-হুমকি কারাভোগের ভয় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীরা পায় না। আজ আমাকে কারাভোগ করতে হয়েছে, কারণ আমি আওয়ামী লীগের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের বিপক্ষে কথা বলেছি। দল বা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বেঁচতে দেয়নি। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারাভোগ করেছি ঠিকই তবে; আমাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের কখনো দাবায়ে রাখা যায় না। তারা সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ ও জনমানুষের পাশে দাঁড়ায়। সর্বশেষে আগত নেতাকর্মীরা যারা সবসময় তার সঙ্গে ছিলেন তাদের ধন্যবাদ জানান।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক পাঠ্যচক্র বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান রনির সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এ এস এম আশিফুদ্দৌলা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোৎ¯œা আরা মিলি, পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজিজুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম ইউছুফ শাহিদ, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আশিকুর রহমান বাঁধন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আলী হোসেন নয়ন, সদস্য রবি মোল্লা, জেলা শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, ছাত্রলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন কবির পিয়াস, সহসভাপতি ইয়াসিন আরাফাত তরুণ, রাজু রানা, আবদুর রউফ পিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান হৃদয়, মাসুদ হাসান কৌশিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহমিদ হুদা বিজয়, যশোর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাজাদ জাহান দিহান, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসাইন রাসেল প্রমুখ। এছাড়াও যশোরের বিভিন্ন উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, যশোর সরকারি এম এম কলেজ ছাত্রলীগ, সিটি কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রলীগসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।