কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে কামারপল্লীতে ব্যস্ততা 

1

নেংগুড়াহাট (মণিরামপুর, যশোর) প্রতিনিধি ॥ বছর পেরিয়ে আবার দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রতি বছর মহান আল্লাহকে খুশি করতে ঈদুল আজহায় পশু কোরবানী করেন। আর এই পশু কোরবানীর জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদী। মাংস কাটা এবং কোরবানির পশু জবাই করার বিভিন্ন ধাপে ছুরি, দা, চাপাতি এসব ব্যবহার করা হয়।

দু’সপ্তাহ পরেই ঈদ। তাই পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে যশোরের মণিরামপুর কামারপল্লীগুলো অনেকটাই ব্যস্ত সময় পার করছে। দগদগে আগুনে গরম লোহায় ওস্তাদ-সাগরেদের পিটাপিটিতে মুখর হয়ে উঠেছে কামারশালাগুলো। আবার এসব ধাতব সরঞ্জামাদী শান দিতে শানের দোকানগুলোতেও ভিড় ক্রমেই বাড়ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নেংগুড়াহাট এলাকায় কামার শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে বছরে দুইবার দুই ঈদকে সামনে রেখে এ এলাকার কামারপল্লীতে ব্যস্ততা বৃদ্ধি পায়।

গৌরীপুর গ্রামের রবিন কর্মকারের ছেলে নির্মল কর্মকার, রতœশাহাপুর গ্রামের গোপাল কর্মকার ছেলে, সুব্রত কর্মকার, চালুয়াহাটি গ্রামের সুনিল কর্মকারের ছেলে মহবাসু কর্মকার বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন দম ফেলারও সময় নেই কামার পাড়ার শিল্পীদের। দিনরাত সমান তালে আগুন আর লোহার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তারা দা, বটি, চাকু, ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদী তৈরি করছেন। এসব ব্যবহার্য জিনিস স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাচ্ছেন।

মণিরামপুর উপজেলার নেংগুড়াহাট এলাকার কামার শ্রমিক সুব্রত কর্মকার বলেন, এক সময় কামারদের যে কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে; ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষ আকর্ষণ হারাচ্ছে। হয়তোবা এক সময় এই পেশা আর থাকবে না তবে কুরবানির ঈদের সময় আমরা একটু আশাবাদী হই।

দেবব্রত কর্মকার বলেন, বংশ পরম্পরায় আমরা এই কাজ করে আসছি। আগে দেখতাম সারা বছর আমার বাপ-দাদারা এই কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। কিন্তু এখন সারা বছর তেমন কোনো কাজ না থাকলেও কোরবানির সময় আমাদের কাজের চাহিদা বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, নেংগুড়াহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও প্রায় শতাধিক কামার পরিবার পৈত্রিক পেশা ধরে রেখেছে। সারা বছর অলস সময় পার করলেও কোরবানীর ঈদ আসলেই অধিক শ্রম দিয়ে বেশি আয়ের স্বপ্ন দেখে কামার পরিবারগুলো। কিন্তু কয়লা ও লোহার দাম বেশি হওয়ায় সেই স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে। ছুরি, বটিসহ কোরবানীর নানা সরঞ্জামাদী তৈরিতে ব্যয় বেশি হলেও উপযুক্ত মূল্যে ক্রেতারা তা ক্রয় করবে কিনা তা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত তিনি।