মহম্মদপুরে কিশোরী ধর্ষণ মামলার বাদীর বাড়িতে আসামিতের হামলা ভাঙচুর

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি ॥ মাগুরার মহম্মদপুরে ঘোড়া মার্কার বর্তমান চেয়ারম্যান ও পরাজিত নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সুযোগ নিয়ে কিশোরী ধর্ষণ মামলার আসামিরা পরবর্তীতে মামলার বাদীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট করেছে। এ ঘটনায় ১০ জন আহত ও ৭ জনকে পুলিশ আটক করেছে। বুধবার রাত ১০টা দিকে উপজেলা নহাটা বাজারে সংঘর্ষ ও দরিসালধা গ্রামে বসত বাড়িতে হামলার এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণ মামলার আসামিরা জামিনে আসার পরই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে জানা যায়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে নহাটা বাজারের জামে মসজিদ এলাকায় ডিমের দোকানে ঘোড়া মার্কার বিজয়ী চেয়ারম্যান মো. তৈয়েবুর রহমান তুরাপ আলীর সমর্থক ফুলবাড়ি গ্রামের হাবিব শিকদারের ছেলে হৃদয় শিকদারের সাথে নৌকার মার্কার পরাজিত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আলী মিয়ার সর্মথক রফিকুলের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রফিকুলের সাথে থাকা আরও ১০-১২ জন চেয়ারম্যান তৈয়েবুর রহমান তুরাপ আলীর সমর্থক হৃদয় শিকদারের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

পরে দু’পক্ষের লোকজন সংগঠিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নহাটা বাজারেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সুযোগ নিয়ে পরবর্তীতে কিশোরী ধর্ষণ মামলার বাদী ও তার ছোট ভাইয়ের বসত ঘর, আসবাবপত্র, মোটরসাইকেল, দোকান ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে আসামিরা। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই ৭ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে জিল¬ুর রহমান (৪০), আরব আলী (৫৫) ও হৃদয় শিকদারকে (২৫) মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উলে¬খ্য, কয়েকমাস আগে নহাটা দরিসালধা গ্রামের এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে কয়েকজন যুবক। এ ঘটনায় আকাশ শেখ (২২), মহম্মদপুর উপজেলার আমিনুর মোল্যা (২৫) ও কামাল মিনে (২৫)কে আটক করে পুলিশ। এরা বেশকিছু আগেই জামিনে মুক্ত হয়েছে।

নহাটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তৈয়েবুর রহমান তুরাপ আলী জানান, বিনা উসকানিতে আমার ভাস্তে হৃদয় শিকদারের উপর সাবেক চেয়ারম্যান আলীর মিয়ার লোকজন হামলা করে এবং বেশ কয়েকজনের বাড়ি, দোকান ঘরে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আমি প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক জানিয়েছিলাম পরে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। সাবেক চেয়ারম্যান আলী মিয়ার সাথে যোগাযোেেগ চেষ্টা করলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মহম্মদপুর থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফুল আলম জানান, দুই চেয়ারম্যানের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ সুযোগ নিয়ে কিশোরী ধর্ষণ মামলার আসামিরা পরবর্তীতে বাদীর বাড়ি ভাংচুর করে। এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছ।

শেয়ার