রাইটস যশোরের মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালায় জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, বিশ্বে প্রতি বছর দুই কোটি দশ লাখ মানুষ দাসত্বের শিকার হয়। বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ অভিবাসনের প্রক্রিয়ায় পাচারের শিকার হচ্ছে। অবস্থা এমন যে যদি কোনোদিন মহাসাগরের তলদেশ খনন করা হয় তাহলে সেখানে মানুষের যে হাড় পাওয়া যাবে তার সবই বাংলাদেশিদের। এটা অসম্মানের।
তিনি বলেন, পাচারকারীরা খুবই সংঘবদ্ধ। সে কারণে পাচার প্রতিরোধ করতে হলে এই কার্যক্রমের সাথে যারা যুক্ত তাদেরকেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বুধবার হোটেল সিটি প্লাজায় মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর এই ওয়ার্কশপের আয়োজন করে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশ এজেন্সির আর্থিক সহযোগিতায় বাংলাদেশে মানব পাচার প্রতিরোধে পাচার বিরোধী একটি সমন্বিত কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় এই ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়।
রাইটস যশোরের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার ইয়াকুব আলী মোল্লার সভাপতিত্বে ওয়ার্কশপের উদ্বোধন করেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান। এতে আলোচনা করেন আইওএম’র মাইগ্রেন্ট প্রটেকশন অ্যান্ড অ্যাসিসটেন্ট ইউনিটের প্রধান ইউজিন পার্ক এবং বাংলাদেশের সহকারী ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার রিপন চক্রবর্তী। স্বাগত বক্তৃতা করেন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক।
ওয়ার্কশপে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন, যশোরের সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির, যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শরীফ নুর মো. আলী রেজা, সাবেক সভাপতি ও পিপি ইদ্রিস আলী, জেলা আইন সহায়তা কর্মকর্তা রাফিয়া সুলতানা, প্রেসক্লাব যশোরের সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক সরোয়ার হোসেন ও হাবিবুর রহমান মিলন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, ডেমোর সহকারী পরিচালক শাহরিয়ার হাসান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খোন্দকার জাকির হোসেন। পরিচালনা করেন রাইটস যশোরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার এস এম আজহারুল ইসলাম।
ওয়ার্কশপে প্রকল্প প্রস্তাবনা তুলে ধরে রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, এটি যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায় বাস্তবায়িত হবে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিচালিত হবে আড়াই বছর। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার এই প্রকল্পটিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্ভাইভারের চাহিদা অনুযায়ী এই প্রকল্পের টাকা বৃদ্ধি করা যাবে।
কর্মশালায় যশোরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, মানব পাচার প্রতিরোধ কার্যক্রমের সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার