বানভাসি মানুষের জন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সিলেট-সুনামগঞ্জের বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণ তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন যশোরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এরমধ্যে উদীচী যশোর, আহ্বান, বনিফেস, জেলা ইমাম পরিষদের সদস্যরা গত তিনদিন ধরে শহরের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং এবং ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছেন। স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, সংগৃহীত অর্থ দিয়ে শুকনো খাবার, জরুরি ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বানভাসি মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এদিকে, সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে যশোরের সচেতন মহল বলছেন, মানবিক বিবেচনায় সিলেটের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো সকলের দায়িত্ব। সিলেটের এ ক্রান্তিকালে সমাজের বিত্তশালীদেরও আহ্বান জানিয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর।

সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, যশোরের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, দড়াটানা, ঈদগাহ মোড়, প্রেসক্লাব চত্বরে কোনো কোনো সংগঠন মাইকিং করে হাতে ত্রাণবাক্স নিয়ে বন্যার্তদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন। কেউ কেউ বানভাসি মানুষের জন্য সাহায্য চেয়ে প্লাকার্ড ও কাগজের দানবাক্স নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে মাইকে কোন কোন সংগঠন মানবিক গান ও গজল বাজিয়ে সাহায্যের আবেদন করছেন। এছাড়া শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যেয়েও অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

উদীচী যশোর সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বিপ্লব জানান, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। আকস্মিক এ বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট সবকিছু প্লাবিত হয়েছে। মানুষজন পানিবন্দি হয়ে আছে। এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা অর্থ সংগ্রহ করছি। স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সম্মুখীন সুনামগঞ্জসহ বৃহত্তর সিলেট। বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি অনুরোধ থাকবে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য। জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি আনোয়ারুল করিম বলেন, এই বিপর্যয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। আমরা যত দ্রুত সম্ভব সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের জন্য কয়েক দিনের রান্না সামগ্রী, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠানোর ব্যবস্থা করবো। তাদের এই ত্রাণসংগ্রহ আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চলমান থাকবে। বনিফেস যুবকল্যাণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বেলাল হোসেন বনি বলেন, চলমান বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চারদিকে পানিবন্দি মানুষের হাহাকার, শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই মানবেতর জীবন পার করছেন। পানি যখন নেমে যাবে তখন মানুষ বেশি কষ্টে থাকবে। তখন আমরা প্রাপ্ত অনুদান দিয়ে সিলেট অঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জনপ্রতি ১ হাজার টাকা দিবো। যশোর শহরের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী দ্বারা পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আহ্বান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খানজাহান আলী শান্ত জানান, নিজেদের সক্ষমতাকে পুঁজি করে মানুষের দুয়ারে হাত পেতে যতটা সম্ভব সিলেট-সুনামগঞ্জের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করবেন তারা। সংগৃহীত অর্থ নিজ উদ্যোগে ত্রাণ আকারে অতি শিগগিরই পৌঁছানো হবে বন্যাদুর্গত এলাকায়। শুধু মানুষের জন্য না বন্যাদুর্গত এলাকার পশুদের জন্যও বিভিন্ন ওষুধ সামগ্রীর ব্যবস্থা করছে আহ্বান।

শেয়ার