বাংলাদেশের লক্ষ্য উন্নতি, মালয়েশিয়ার পরীক্ষা

73

সমাজের কথা ডেস্ক॥ নয় মাস পর আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলবে মেয়েরা। প্রতিপক্ষ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়া। দুটি প্রীতি ম্যাচে তাই দুই দলের লক্ষ্য দুই রকম। বাংলাদেশের চাওয়া লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়ে ভালো কিছু পাওয়া। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার লক্ষ্য জুলাইয়ের এএফএফ কাপের জন্য প্রস্তুতি শানিয়ে নেওয়া।

কমলাপুলের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আগামী রোববার।

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পর গত বছর সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হংকংয়ের বিপক্ষে সবশেষ খেলেছিল বাংলাদেশ; আমন্ত্রণমূলক ওই ম্যাচে জিতেছিল ৫-০ ব্যবধানে। ২০১৭ সালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলা সবশেষ ম্যাচের অভিজ্ঞতা অবশ্য সুখকর নয়; হেরেছিল ২-১ গোলে।

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান ৮৫তম, সেখানে বাংলাদেশ ১৪৬তম। র্যাঙ্কিংয়ে এত বড় ব্যবধানের পরও কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন আশাবাদী দল নিয়ে।

“অবশ্যই আমাদের শক্তির জায়গা হলো, আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি,মেয়েরা বয়সভিত্তিক ফুটবল খেলে আসছে। তিন জন ছাড়া সবাই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছে। যেহেতু দেশের মাটিতে খেলা, ওরা র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকলেও আমরা ফিটনেসের দিক দিয়ে এগিয়ে আছি; প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ উপহার দেব।”

“হোমওয়ার্ক আগে থেকেই করেছি। মালয়েশিয়ার প্রতিটা খেলোয়াড়, খেলার স্টাইল, ফর্মেশন নিয়ে কাজ করেছি। ওদের খেলোয়াড়রা বয়সে বড়। দুইটা ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। কমলাপুরে অনুশীলন করেছি, তাই আমাদের জন্য ভালো হবে। সাফ গুরুত্ব পাচ্ছে তবে আপাতত এই দুই ম্যাচ ঘিরেই সব পরিকল্পনা। মেয়েরা নিবিড় অনুশীলনে ছিল আর এখন যে অবস্থায় আছে তাতে পয়েন্ট পাওয়ার আশা করাই যায়।”

দলে নতুন মুখ দুই গোলরক্ষক মিলি আক্তার, ইতি রানী ও মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী। ২০-এর উপরে বয়স কেবল অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের। মারিয়া মান্দা, মার্জিয়া, রুপনা চাকমারা বয়সভিত্তিক দলের পাশাপাশি জাতীয় দলেও পরিচিত মুখ। ছোটন আস্থা রাখছেন দলের উপর। কোচ বললেন, গোলের জন্য শুধু সাবিনার উপর নির্ভরশীল নয় তার দল।

“বয়সভিত্তিক বিভিন্ন পর্যায় মিলিয়ে তহুরার ৪০ উপরে গোল আছে, কৃষ্ণা, সানজিদা, স্বপ্না, মারিয়াদের গোল আছে। এরা খেলার মধ্যে আছে। বিগত কয়েকবছর অনেক ম্যাচ খেলেছি। সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব।”

“এখানে প্রতিদিনই উন্নতি নিয়ে কাজ হচ্ছে। রুপনা বয়সভিত্তিক দলে বা অনূর্ধ্ব-১৯-এ কোনো গোলই হজম করেনি। দল হাই লাইন প্রেসিং ট্যাক্টিসে খেলবে। দ্রুত আক্রমণ কীভাবে করা যায়, সেভাবে খেলব।”

অধিনায়ক সাবিনাও দলে ভারসাম্য দেখছেন।

“আমাদের বড় সুবিধা হল সবাই এক সাথে ক্যাম্পে আছি, অনুশীলন করছি। আমার মনে হয় অবশ্যই আমরা ভারসাম্যপূর্ণ দল।”

সহ-অধিনায়ক মারিয়া জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতার কমতির কথা বললেও প্রতিশ্র“তি দিলেন ভালো খেলার।

“সিনিয়র লেভেলে আমাদের অভিজ্ঞতা কম থাকে। তবে বয়সভিত্তিকে আমাদের অভিজ্ঞতা অনেক সেগুলা কাজে লাগবে। অনেক পরিশ্রম করেছি, আমাদের লক্ষ্য থাকবে ভালো খেলার।”

আগামী মাসে ফিলিপিন্সে এএফএফ কাপে খেলবে মালয়েশিয়া। ওই টুর্নামেন্টের আগে নিজেদের শক্তি, দুর্বলতা খতিয়ে দেখার লক্ষ্য জানালেন দলটির কোচ জ্যাকব জোসেফ।

“বাংলাদেশে প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসার আগে আমরা এক সপ্তাহ অনুশীলন করেছি। মূলত আমাদের প্রস্তুতি জুলাইয়ের এএফএফ কাপের জন্য। এই প্রীতি ম্যাচগুলো আমাদের জন্য কোনটা ভালো, কোনটা দুর্বলতা সেগুলো খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে, যেহেতু এএফএফ কাপের আগে আমাদের আরও কোনো প্রীতি ম্যাচ নেই।”

“র্যাঙ্কিং কোনো পার্থক্য গড়ে দেবে না। কেননা, মালয়েশিয়া মেয়েদের ফুটবল দল ১৯৬০ সালে শুরু হয়েছে, বাংলাদেশ শুরু করেছে নতুন করে। আমি করে করি, বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি দেখেছিলাম, তারা ভারতকে হারিয়েছিল। ভারত শক্তিশালী দলগুলোর একটি, তাদের বিপক্ষে জয়ের অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশও শক্তিশালী দল।”