সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্রী হাসি হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মানববন্ধন

1

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা ॥ কলেজ ছাত্রী গৃহবধূ শাহিনা রাসুল হাসির (২১) হত্যাকারী মামমুদুল হাসান মিল্টন ও সহযোগীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে উত্তাল গোটা বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন। শনিবার সকাল ১১টায় বিষ্ণুপুর চাঁচাই ফুটবল মাঠে জড়ো হয় কয়েক হাজার নারী পুরুষসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ। ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের মধ্যে ১০টি গ্রামের মানুষ এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে হত্যাকারীর ও সহযোগীদের ফাঁসির দাবি তোলেন। ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করে এই নির্মম হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িত সকলের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের এই জনপদে এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মৃনাল কুমার মন্ডল। নিহত হাসির বাবা আমিরুল ইসলাম, মা ফাতেমা খাতুন, ভাই ফয়সাল আলম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হক, বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার উপজেলা সভাপতি গাজী জাহাঙ্গীর কবীর, ইউনুস আলি মোড়ল, গোবিন্দলাল সরদার, আফসার উদ্দিীন, গোলাম রব্বানী, ইফতেখারুল ইসলাম, ফারজানা শওকাত প্রমুখ নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য রেখে হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন।

কালিগঞ্জ রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের অনার্স’র ছাত্রী শাহিনা রাসুল হাসির সাথে পাশ্ববর্তী দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনয়নের মোবারক আলি গাজীর পুত্র মাহমুদুল হাসান লিটনের বিয়ে হয় ২ বছর আগে। বিয়ের পর থেকই যৌতুকের টাকার জন্য স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন নানা ভাবে নির্যাতন শুরু করে হাসির উপর। অভিযোগ, মোটর সাইকেল কেনার জন্য ৫লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে দুবছর ধরেই নির্যাতন চলতে থাকে। সর্বশেষ ৯জুন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ফরম পূরণের জন্য স্বামীর কাছে টাকা চাইলে শুরু হয় নির্যাতন। অভিযাগ, শাহিনা রাসুল হাসিকে ৯ জুন সকালে শ্বশুর বাড়িতে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার লাশ গোসলখানার বাঁশের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া হলেও নিহত হাসি ছিল মাটিতে বসা অবস্থায়। এই অবস্থা দেখে এলাকাবাসী পালিয়ে যাওয়ার সময় তার স্বামী মাহমুদুল হাসান মিল্টনকে (২৮) ধরে পুলিশে দেয়। নির্যাতনের সাথে জড়িত হাসির নোনদ মুর্শিদা পারভীন ও শাাশুড়ির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিলেও এদেরকে গ্রেফতার না করায় বিক্ষোাভ সমাবেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান মামলার বিষয়ে শনিবার বিকালে বলেন, আটক স্বামী মাহমুদুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে।