হিজাব না পরা নারীরা ‘পশুর মতো সাজার চেষ্টা করে’: তালেবান

1

সমাজের কথা ডেস্ক॥ মুসলিম নারীদের মধ্যে যারা সারা শরীর ঢেকে রাখা ইসলামিক পোশাক পরে না তারা ‘পশুর মতো সাজার চেষ্টা করে’, আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরজুড়ে সাঁটানো তালেবানের ধর্মীয় পুলিশের পোস্টারে এমনটি বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার তালেবানের এক কর্মকর্তা ওই পোস্টারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে ডয়েচে ভেলে।

গত বছরের অগাস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে তালেবান নারীদের ওপর একের পর এক কঠোর বিধিনিষেধ চাপিয়ে যাচ্ছে; মিলিয়ে যাচ্ছে তালেবানের প্রথম শাসন উচ্ছেদের পর মার্কিন নিয়ন্ত্রণের দুই দশকে আফগান নারীদের অর্জিত যৎসামান্য অগ্রগতিগুলো।

চলতি বছরের মে মাসে আফগানিস্তানের এখনকার সর্বোচ্চ নেতা ও তালেবানপ্রধান হায়বাতুল¬াহ আখুন্দজাদার অনুমোদিত এক ডিক্রিতে বলা হয়, নারীদের ‘সচরাচর বাড়িতেই থাকা উচিত’। বাড়ির বাইরে যেতে মুখমণ্ডলসহ সারা শরীর ঢেকে বের হওয়ারও নির্দেশ দেয় তারা।

কয়েকদিন আগে তালেবানের ‘পুণ্যের প্রচার ও পাপ প্রতিরোধ’ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কান্দাহারজুড়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখার পোশাক বোরকার ছবি দেওয়া পোস্টার লাগায়।

“যে মুসলিম নারীরা হিজাব পরে না, তারা পশুর মতো সাজার চেষ্টা করে,” বলা হয়েছে ওই পোস্টারগুলোতে।

তালেবানের ‘ডি-ফ্যাক্টো’ ক্ষমতাকেন্দ্র কান্দাহারের অসংখ্য ক্যাফে, দোকান ও বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের হোর্ডিংগুলোতে এই পোস্টারগুলো লাগানো হয়েছে। সেসব পোস্টারে বলা হয়েছে, ছোট, টাইট ও স্বচ্ছ পোশাক আখুন্দজাদার ডিক্রিবিরোধী।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তালেবানের ‘পুণ্যের প্রচার ও পাপ প্রতিরোধ’ মন্ত্রণালয়ের কাবুলের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি, তবে মন্ত্রণালয়টির স্থানীয় এক কর্মকর্তা পোস্টার লাগানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

“আমরা পোস্টার লাগিয়েছি। আর যে নারীদের (জনসমুক্ষে) মুখ ঢাকা থাকবে না, আমরা তাদের পরিবারকে বিষয়টি জানাবো এবং ডিক্রি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবো,” প্যারিসভিত্তিক এক বার্তা সংস্থাকে এমনটাই বলেছেন ‘পুণ্যের প্রচার ও পাপ প্রতিরোধ’ মন্ত্রণালয়ের কান্দাহারপ্রধান আবদুল রহমান তায়েবি।

আখুন্দজাদার ডিক্রিতে কর্তৃপক্ষকে হিজাব না পরা নারীদের সতর্ক করতে এবং প্রয়োজনে তাদের পুরুষ আÍীয়দের সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানে কাবুলের বাইরে বেশিরভাগ নারীকেই বোরকা পরতে দেখা যায়। তালেবানের আগের আমলেও নারীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক ছিল।

বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান মিশেল ব্যাশেলেট আফগানিস্তানে নারীদের ওপর ‘প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিগত নিপীড়ন’ চালানোয় তালেবান সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন।

“সেখানকার পরিস্থিতি সংকটজনক,” বলেছেন তিনি।

গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান তাদের নতুন শাসন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত চলা আগের শাসনামলের তুলনায় কম কঠোর হবে বলে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে তারা নারীদের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়েই যাচ্ছে।

বিধিনিষেধের কারণে দেশটির লাখ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক স্কুলে যেতে পারছে না, অসংখ্য নারী তাদের সরকারি চাকরিতে ফিরতে পারছেন না।

নারীদের একা ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে; রাজধানীর পার্কগুলোতে দিনের বেলায় তখনই নারীরা যেতে পারবেন, যখন পুরুষদের সেখানে যাওয়ার অনুমতি থাকবে না।