রেকর্ডের মালায় ইংল্যান্ডের বিশ্ব রেকর্ড ৪৯৮

সমাজের কথা ডেস্ক॥ দিনের শুরুতেই ইংল্যান্ডের উইকেট হারানোর ধাক্কা এবং নেদারল্যান্ডসের উল¬াস। আমস্টেলভিনের ২২ গজে এরপর যা হলো, তা কেবলই জন্ম দিল বিস্ময়ের। ফিল সল্ট ও দাভিদ মালানের ঝড়ে লাইন-লেংথ ভুলে গেলেন ডাচ বোলাররা। এরপর তাদের যেন কচুকাটা করলেন জস বাটলার ও লিয়াম লিভিংস্টোন। সেঞ্চুরি হলো তিনটি, ওলটপালট হলো পরিসংখ্যানের বেশ কয়েকটি পাতা। শেষে হলো বিশ্ব রেকর্ড; ওয়ানডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের নতুন ইতিহাস গড়ল ইংল্যান্ড।

আমস্টেলভিনে শুক্রবার ডাচদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৪ উইকেটে ৪৯৮ রান করেছে ওয়েন মর্গ্যানের দল।

নতুন চূড়ায় ওঠার পথে নিজেদের গড়া আগের রেকর্ড ভাঙল ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১৮ সালে ৪৮১ রান ছিল এই সংস্করণে দলীয় সংগ্রহের আগের বিশ্ব রেকর্ড।

সর্বোচ্চ রানের তালিকায় পরের নামটিও ইংলিশদের। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৬ সালে তারা করেছিল ৪৪৪ রান।

অবিশ্বাস্য কিছু করার পণ করেই যেন ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছিলেন ইংল্যান্ডের সবাই। ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি উপহার দিলেন সল্ট ও মালান। চারে নেমে ছক্কার বৃষ্টিতে দেড়শ ছাড়ানো ইনিংস খেললেন বাটলার। আর লিভিংস্টোন তো তাণ্ডব চালিয়ে গড়লেন দেশের হয়ে এই সংস্করণে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড।

ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে খেলতে নেমে ১২২ রান করেন সল্ট। তার ৯৩ বলের ইনিংসটি সাজানো ৩ ছক্কা ও ১৪ চারে। শুরুতে ধীরেসুস্থে ইনিংস গোছানো মালান খেলেন ৩ ছক্কা ও ৯ চারে ১০৯ বলে ১২৫ রানের ইনিংস।

সল্ট যখন বিদায় নেন তখন প্রায় শেষ ৩০ ওভার। সবশেষ আইপিএলে দুর্দান্ত ব্যাটিং উপহার দিয়ে এক আসরে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া বাটলার বাকি অংশকে যেন ধরে নিলেন টি-টোয়েন্টি। ১৪ ছক্কা ও ৭ চারে স্রেফ ৭০ বল খেলে যখন তিনি মাঠ ছাড়লেন, নামের পাশে ঝলঝল করছে ১৬২ রান।

আর ৪৫তম ওভারে উইকেটে গিয়ে ৬টি করে ছক্কা-চারে ২২ বলে ৬৬ রানের খুনে ইনিংস খেলেন লিভিংস্টোন। এই ইনিংসের পথে ১৭ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি। যৌথভাবে যা ওয়ানডেতে দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটির কীর্তি। ১৬ বলে করা এবি ডি ভিলিয়ার্সের রেকর্ডটি একটুর জন্য ভাঙা হলো না তার।

ইংল্যান্ডের ইনিংসে মোট ছক্কা হয়েছে ২৬টি। ওয়ানডেতে এটাও বিশ্ব রেকর্ড। এখানেও তারা ভেঙেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০১৯ সালে গড়া নিজেদেরই ২৫ ছক্কার রেকর্ড।

ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথম এক ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি করল ইংল্যান্ড। এর আগে এমন ঘটনা দেখা গেছে দুইবার, প্রতিবারই করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৫ সালেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের বিপক্ষে।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই জেসন রয়কে হারানো ইংল্যান্ড রেকর্ডের চথে চলা শুরু করে সল্ট ও মালানের ব্যাটে। দুইজনে গড়েন ২২২ রানে জুটি। ওয়ানডেতে দ্বিতীয় উইকেটে যা ইংলিশদের তৃতীয় সর্বোচ্চ।

সেঞ্চুরি করে সল্টের বিদায়ের পর শুরু হয় ‘বাটলার শো’। ফিলিপ বোয়াসেভেনকে চার মেরে যার শুরু, পরের ওভারে তিনি ছক্কায় ওড়ান ডাচ অধিনায়ক পিটার সিলারকে। বাঁহাতি এই স্পিনারের পরের ওভারে চার বলের মধ্যে মারেন আরও তিনটি। পরের বলেই বেঁচে যান ক্যাচ দিয়ে, ৩৭ রানে।

জীবন পেয়ে যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন বাটলার। তার সামনে বল ফেলার জায়গাই খুঁজে পাচ্ছিলেন না নেদারল্যান্ডস বোলাররা। বাস ডে লেডেকে চার বলের মধ্যে হাঁকান তিন চার ও এক ছক্কা। আরিয়ান দত্তকে টানা তিন ছক্কায় ওড়ানোর পথে ৪৭ বলে স্পর্শ করেন তিন অঙ্ক।

একটু জন্য পারেননি দেশের হয়ে নিজেরই গড়া ৪৬ বলে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙতে।

শেয়ার