শরণখোলায় বিদ্যুৎলাইনসহ ২ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত 

72
কালবৈশাখীর ছোবল

শরণখোলা প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় কালবৈশাখী ঝড়ে দুই শতাধিক কাচা ঘরবাড়ি ও অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে যাওয়ার খরব পাওয়া গেছে। এছাড়া বজ্রপাতে একটি গরু মারা গেছে। ঝড়ে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে বিদ্যুতের দুটি খুটি।

এতে উপজেলার গ্রামা লের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টার পর রাত ৮টার দিকে শুধুমাত্র উপজেলা সদরের বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হলেও গ্রামের বিদ্যুৎ কখন দেওয়া সম্ভব হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না বিদ্যুৎ সংশি¬ষ্টরা।

শুক্রবার বিকেল পৌনে তিনটার দিকে বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড় শুরু হয়। ২০ থেকে ২৫ মিনিট স্থায়ী এই ঝড়-বৃষ্টিতে উপজেলার খোন্তাকাটা, রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নের বেশি ক্ষতি হয়। সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর কদমতলা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খায়রুল শরীফ জানান, তার বাড়ির বসত ঘরের ওপর বিশাল চাম্বল গাছ পড়ে ঘরটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে তার প্রায় লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে। তার পাশের বাড়ির ভ্যানচালক সেলিম গোলদারের একটি ঘরে চাম্বল গাছ উপড়ে এবং ঝড়ে আরেকটি ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে।

এই ইউনিয়নের একশর বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ওই ইউপি সদস্য জানিয়েছেন। সাউথখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন খলিল জানান, ঝড়ের পরে তাৎক্ষণিক খোঁজ নিয়ে জনেছেন তার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বেশিরভাগ ঘর চাম্বল গাছ পড়েই ক্ষতি হয়েছে।

খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন জানান, তার ইউনিয়নের পূর্ব রাজৈর গ্রামে বজ্রপাতে এমাদুল হাওলাদারের একটি গরু মারা গেছে। এছাড়া গাছ পড়ে ২০-২৫টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পিরোজপুর পল¬ী বিদ্যুৎ সমিতির শরণখোলা সাবজোনাল অফিসের এজিএম আশিক মাহামুদ সুমন জানান, ঝড়ে দুটি খুটি ভেঙে পড়াসহ ৩০০ কিলোমিটার বিদ্যুতের তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছ পড়েই বেশি ক্ষতি হয়েছে। জরুরিভাবে উপজেলা সদরের বিদ্যুৎ চালু করা সম্ভব হয়েছে। বিচ্ছিন্ন সংযোগ মেরামতের কাজ চলছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হবে।