যুবলীগ নেত্রীর ছবি এডিট করে ফেসবুকে পোস্ট আইসিটি আইনে দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফেসবুক আইডি থেকে ছবি সংগ্রহ করে তা এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে যশোরে দু’জনের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করেছেন যশোরে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে যুবলীগ কর্মী শেখ সাদিয়া মৌরিন (৩১)।

তিনি চাঁচড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং চাঁচড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ফুলের মেয়ে। গত বুধবার বিকেলে কোতোয়ালি থানায় মালাটি রেকর্ড হয়।

আসামিরা হলো, শহরের খড়কী স্টেডিয়ামপাড়ার আনোয়ারুল কবীর (৪৫) এবং সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার এবং বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের মৃত শাহাদৎ হোসেন বিশ্বাসের ছেলে শহিদুজ্জামান (৪৮)।

এজাহারে মৌরিন উল্লেখ করেছেন, তিনি তার মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি ফেসবুক আইডি খুলেছেন এবং তা চলমান। আসামি আনোয়ারুল কবীর গত ২১ মে বেলা ১১টা থেকে ২৪ মে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে তার ফেসবুক থেকে ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে তা এডিট করে। এরপর তা তার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন আইডিতে ছবি পোস্ট করে সামাজিকভাবে মানসম্মানের ক্ষতি করেছে। সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। পরবর্তীতে অপর আসামি শহিদুজ্জামান তার ছবি সংগ্রহ করে বিভিন্ন ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে পোস্ট করেছে। এতেও তার সম্মানের ক্ষতি হয়। বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। আসামিরা তার আরো বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে তিনি আশংকা করছেন।

তিনি বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করেছেন। নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন সময় আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশংকাও রয়েছে বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
খড়কী স্টেডিয়াম পাড়ার একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ‘আনোয়ারুল কবীর ফেসবুক আইডিতে নিজেকে প্রগতিশীল মানুষ হিসাবে দাবি করে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা কুরুচিপূর্ণ কথা উপস্থাপন করে থাকেন। যা একজন সম্মানিত মানুষের ব্যাপক সম্মানের ক্ষতি হয়ে থাকে। এদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ফেসবুক আইডিতে দেশদরদী নানা ¯েøাগান থাকলেও কোন কাজের সাথে যুক্ত হতে যশোরের মানুষ দেখিনি। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরী।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই তাপস মন্ডল জানিয়েছেন, গত বুধবার থানায় মামলাটি হয়েছে। এখন বাদির সাথে কথা বলবো। এরপর আসামি আটকের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শেয়ার