তালিকায় যশোরের ৯৫টি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

 সারাদেশের অনিবন্ধিত ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ

এস হাসমী সাজু : যশোর জেলায় নামসর্বস্ব ৯৫টি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৭২ ঘন্টা (তিনদিনের) মধ্যে সারাদেশে অবৈধভাবে চলা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যশোরের সিভিল সার্জন অফিসও এই নির্দেশনা পেয়েছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল।

তিনি জানান, অধিদফতর থেকে চারটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। এছাড়া নিবন্ধিত যেসব প্রতিষ্ঠান নবায়ন করেনি, তাদের নিবন্ধন নবায়নের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে। সময়সীমার মধ্যে নবায়ন না করলে সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। একই সাথে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অপারেশনের সময় অ্যানেস্থেশিয়া প্রদান ও ওটি অ্যাসিস্ট করার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত চিকিৎসক ছাড়া অন্যদের রাখা হলে সেসব প্রতিষ্ঠান ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

অপরদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন নিবন্ধনের আবেদন করেছে, তাদের লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম দ্রæত শেষ করতে হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্তির আগে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

এদিকে সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলা সদরসহ আটটি উপজেলায় সর্বমোট ২৯০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ১১০টি ক্লিনিক এবং ১৮০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে অবৈধ ও অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ৯৫টি। শুধুমাত্র যশোর সদরেই রয়েছে ৮৫টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এরমধ্যে ৫৫টির কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। বাকি ৩০টি অবৈধ ও অনিবন্ধিত রয়েছে। এই অবৈধ ও অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে পরিচালনা করে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি হাতে পেয়েছেন। সিভিল সার্জন মহোদয় সরকারি সফরে আছেন। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সিভিল সার্জনের নির্দেশক্রমে অবৈধ ও অনিবন্ধিত প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক বরাবর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার