ভারতে নারী পাচার মামলায় আরেক নারী অভিযুক্ত, আদালতে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর সদরের সীতারামপুর গ্রামের এক নারীকে ভারতে নিয়ে বিক্রির চেষ্টার মামলায় রহিমা বেগম নামে এক নারীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পিবিআই। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় এজাহারনামীয় অপর চারজনের অব্যহতির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক বেদাশীষ মন্ডল। অভিযুক্ত রহিমা বেগম সীতারামপুর গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, সীতারামপুর গ্রামের পারভেজ হোসেনের স্ত্রী সুকতারা বেগমকে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর ভারতে নিয়ে যায় পাচারকারীদের একটি চক্র। দালালের মাধ্যমে চোরাই পথে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারতে নিয়ে যাওয়ার পর সুকতারাকে অপরিচিত একটি জায়গায় আটকে রেখে বিক্রির চেষ্টা করছিল পাচারকারীরা। ১২/১৩ দিন আটক থাকার পর সুযোগ বুঝে সুকতারা সেখান থেকে পালিয়ে আসেন এবং মোবাইল ফোন করে ঘটনাটি তার স্বামীকে জানান। এ ঘটনায় সুকতারা বেগমের স্বামী পারভেজ হোসেন ৫ জনকে আসামি করে যশোর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা করেন। এরই মধ্যে সুকতারা বেগম দেশে আসার চেষ্টাকালে তিনি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হন। বিএসএফ অবৈধ পথে ভারতে প্রবেশের অপরাধে সুকতারা বেগমকে বনগাঁর আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। পরবর্তীতে সুকতারা বেগম আদালত থেকে জামিনলাভ করেন এবং বিজিবি-বিএসএফের সহায়তায় দেশে ফিরে আসেন। পরে তিনি যশোরের আদালতে তাকে পাচার সংক্রান্ত ঘটনায় আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। তার জবানবন্দিতে পাচারের ঘটনায় একমাত্র রহিমা বেগমের নাম জানিয়েছিল তিনি। এ মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে শুকতারার জবানবন্দি ও সাক্ষীদের বক্তব্যে পাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ায় রহিমা বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

শেয়ার