আইনজীবী কাজী আব্দুস শহীদ লালের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণানুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যমত পুরোধা ব্যক্তিত্ব ভাষাসৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বিশিষ্ট আইনজীবী কাজী আব্দুস শহীদ লালের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণানুষ্ঠান হয়েছে। গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি যশোর জেলা কমিটির আয়োজনে রোববার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির ১নং মিলনায়তনে এ স্মরণানুষ্ঠান হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি যশোরের সভাপতি আবুল হোসেন। সূচনা বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি যশোরের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু। স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শরীফ নূর মো. আলী রেজা, সাবেক সভাপতি কাজী ফরিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মোর্ত্তজা ছোট,পিপি এম ইদ্রিস আলী, জিপি কাজী বাহাউদ্দিন ইকবাল, সিনিয়র আইনজীবী নজরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী রায়হান, আইন বিষয়ক সম্পাদক গাজী আব্দুল কাদির, স্পেশাল পিপি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সৈয়দ মোকাররম হোসেন, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি যশোরের সহসভাপতি শহীদ আনোয়ার, সদস্য স্বপন ভদ্র, রবিউল ইসলাম বেগ, ময়নুল হক খান ময়না, প্রয়াত কাজী আব্দুস শহীদ লালের ছেলে কাজী রেফাত রেজওয়ান সেতু প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি যশোরের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা হুমায়ুন কবির।
বক্তরা বলেন, কাজী আব্দুল শহীদ লাল ছিলেন যশোর আইন অঙ্গনের এক দিকপাল। আইনী পরামর্শে তিনি ছিলেন অনন্য। তার আইনী পরামর্শ শুনে আইনজীবীরা শিখতেন এবং ভুক্তভোগীরা পেতেন ন্যায় বিচার। সৃষ্টির অমোঘ নিয়মে তিনি আমাদের মাঝে স্বশরীরে না থেকেও আছেন হৃদয়ে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২০ মে কাজী আব্দুস শহীদ লাল ইন্তেকাল করেন। যশোরের অভিভাবকতুল্য বর্ষিয়ান এ ব্যক্তিত্ব ওইদিন ভোর চারটার দিকে পুরাতন কসবা কাজীপাড়াস্থ নিজ বাসায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে যশোরের কুইন্স হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বিশিষ্ট আইনজীবী সদস্য প্রয়াত কাজী আব্দুস শহীদ লাল ১৯৩৯ সালের ২৮ নভেম্বর যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানার বন্দবিলা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের কাজী বাড়িতে কাজী আব্দুল গণি এবং মরিয়ম বেগমের তৃতীয় সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি অবিভক্ত ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়নের (মতিয়া) নেতা ছিলেন তিনি। পরে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ (মোজাফ্ফর), সিপিবি এবং শেষে গণফোরামের রাজনীতি করেন। প্রায় এক যুগ তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থেকে সামাজিক ও মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকা-ে জড়িত ছিলেন।
প্রয়াত কাজী আব্দুস শহীদ লাল ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত যশোরের প্রায় এগারোটা শ্রমিক ইউনিয়ের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। প্রায় সবকটি ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির তিনি চার বারের নির্বাচিত সভাপতি ও চার বারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যশোরে উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে আমৃত্যু উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তির্যক যশোরের সভাপতি, যশোর ইনসটিটিউট ও শিল্পকলা একাডেমির আজীবন সদস্য ছিলেন।

শেয়ার