কালীগঞ্জে সরকারি মাহতাব উদ্দীন কলেজের দুই সহকারী অধ্যাপককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন কলেজের দুই সহকারী অধ্যাপককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন ও গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেনকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এসময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে কালেজের একটি কক্ষে আটকে রাখা হলে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। ওই দিনই এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. মাহবুবুর রহমান ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অধ্যক্ষ ড. মো. মাহবুবুর রহমান বর্তমানে কলেজের দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় আছেন বলে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগে অধ্যক্ষ ড. মো. মাহবুবুর রহমান উলে¬খ করেন, ঐতিহ্যবাহি এ কলেজটি ২০১৪ সাল থেকে একটি কুচক্রি মহলের চক্রান্তের শিকার। কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত বহিরাগত সন্ত্রাসী দ্বারা আমিসহ প্রতিবাদি শিক্ষকরা হামলার শিকার হচ্ছি। ১৯ মে ঘটনার দিন দুপুর ১ টার দিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাত বস্তার খাতা চুরির চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি এবং একজন ননএমপিওভুক্ত জুনিয়র প্রভাষকের নেতৃত্বে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার কলেজে প্রবেশ করেন। আমি জরুরী কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় সিনিয়র সহকারী অধ্যাপক মো. মোশারফ হোসেনের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু মাননীয় সংসদ সদস্যের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় ৬১ নং সিরিয়ালধারী ননএমপিওভুক্ত প্রভাষক সুব্রত কুমার নন্দী জোরপূর্বক অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে অসদচারন করেন। ঘটনার সময় সাংসদ আনার কলেজে প্রবেশ করেই খাতা চুরি মামলার স্বাক্ষী সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেনকে তুই শিবির করিস বলেই চড় থাপ্পড় মারতে থাকেন। এরপর তিনি কলেজ থেকে বেরিয়ে যান। এরপর কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ খাতা চুরি মামলার ২নং আসামি আব্দুল মজিদ মন্ডল, সুব্রত কুমার নন্দী, খাতা চুরি মামলার ১নং আসামি রকিবুল ইসলাম মিল্টন, অফিস সহকারী সবুজ ও তাপস সাধু খা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেনকে টেনে হিচড়ে তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জিম্মি করে তার কাছে রক্ষিত দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি ফাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। পরে আমি জানতে পেরে ফোন দিলে থানা পুলিশ শিক্ষকদের উদ্ধার করে। এদিকে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান জানান, কলেজ থেকে সরকারি খাতা চুরির বিষয় নিয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশক্রমে একটি চুরির মামলা করা হয় আদালতে। মামলাটি বর্তমান সিআইডি তদন্ত করছে। এই মামলার সাক্ষি আছেন গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন। এ কারণে তার উপর ক্ষুব্ধ আসামিরা।

লাঞ্ছিত শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, তিনি তার ডিপার্টমেন্টে জরুরী কাজ করছিলেন। এমন সময় তার কক্ষে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম এসে হাজির হন। তার সঙ্গে থাকা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানীকে কক্ষের দরজা বন্ধ করতে বলেন। সংসদ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে বলেন ‘তুই কলেজে গ্রুপিং করিস, তুই শিবির করিস’ বলেই মুখে চড় মারতে থাকেন। একে একে ৫ থেকে ৬ টি চড় দিয়ে তাকে শিক্ষক কমন রুমে যেতে বলা হয়। সাজ্জাদ হোসেন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, তিনি মার খাওয়ার পর শিক্ষক কমন রুমে যান সেখানে বসেন। এরপর তিনি বাথরুমে যেতে যান। বাথরুমের দরজা পর্যন্ত চলে যাবার পর তাকে ডেকে মুটোফোন রেখে যেতে বলা হয়। তারপর মুটোফোন রেখে বাথরুমে যান। বাথরুম থেকে ফিরে এসে আবারো সেখানে বসেন।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বলেন, দুদকের একটি ফাইল হাতিয়ে নিতে সুব্রত ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মন্ডল তাকে অপমান অপদস্ত করেন। কিন্তু এ ধরণের একটি সরকারি ডকুমেন্ট নিতে হলে কালীগঞ্জ ইউএনও’র সম্মতি ছাড়া দিতে পারবেন না বলে তাদের সাফ জানিয়ে দেন। বিকাল পৌনে ৫টার দিকে সুবিধা করতে না পেরে তাকে ছেড়ে দেন বলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন জানান।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ -৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার মুঠোফোনে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজটি এলাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। অনেক পরিশ্রম করে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়েছে কিন্তু শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এখনো জাতীয়করণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো বলেন, কলেজের একটি দুর্নীতির বিষয়ে দুদকের মামলা দায়ের হয়। সেই মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা জাতীয়করণ করার জন্য তিনি কলেজে গিয়েছিলেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে। সেখানে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার