তাইজুলের দারুণ বোলিংয়েও জমল না শেষ দিনের রোমাঞ্চ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ম্যাচে তখন রোমাঞ্চের লেশমাত্র নেই। বরং অপেক্ষা, কখন ম্যাচের যবনিকা টানবেন আম্পায়াররা। হঠাৎই গ্যালারিতে গুটিকয় দর্শকের চিৎকার। জয় দেখে ফেলেছেন তারা! তবে ফলাফলের জয় নয়, বল হাতে মাহমুদুল হাসান জয়। তখন চলছে স্রেফ সময় কাটানোর পালা, ম্যাচে আর সমীকণের কিছুই নেই। তরুণ এই ব্যাটসম্যানের বোলিং প্রতিভা নাহয় উপভোগ করা যাক! কিন্তু পোড়া কপাল, এই বিনোদনও জুটল না। জয় এক বল করার পরই দুই অধিনায়ক মেনে নিলেন ড্র।

চতুর্থ দিন শেষ বিকেলে দুই উইকেট আর শেষ দিন সকালের সেশনে দুটি, চার উইকেট নিয়ে ম্যাচে প্রাণের সঞ্চার করেছিল বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলামের দারুণ বোলিং বাড়িয়ে দিয়েছিল আশা। কিন্তু নাটকীয় কিছু হয়নি পরে। খানিকটা উত্তেজনা ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত ড্র-ই হলো বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার চট্টগ্রাম টেস্ট।

উইকেটে খুব একটা প্রাণের ছোঁয়া ছিল না শেষ দিনেও। টার্ন কিছুটা মিলেছে বটে, তবে বিপজ্জনক কিছু নয়। বাঁহাতি স্পিনের স্কিলে এই মরা উইকেটও কিছুটা জীবন্ত করে তোলেন তাইজুল। তবে অন্যরা পারেননি ততটা ভালো করতে। খানিকটা নড়বড়ে অবস্থা থেকে নিরোশান ডিকভেলা ও দিনেশ চান্দিমালের জুটিতে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।

জিততে হলে শেষ দিনের শুরুতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল দ্রুত উইকেট। উল্টো শ্রীলঙ্কা এগোতে থাকে দ্রুত। খুব আগ্রাসী সব শট যে তারা খেলেছেন, এমন নয়। মূলত সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও নাঈম হাসানের আলগা বোলিংই সুযোগ করে দেয় রান তোলার। একের পর বাউন্ডারিতে কুসল মেন্ডিসের রান হয়ে যায় ২৫ বলে ৪০!
দিনের প্রথম ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ৬০ রান।

রানের সেই স্রোতে বাঁধ দেন তাইজুল। দারুণ এক ডেলিভারিতে তিনি বোল্ড করে দেন মেন্ডিসকে। ওই ডেলিভারিতে হতভম্ব মেন্ডিস ফেরেন ৪৩ বলে ৪৮ করে।
তার বিদায়ে রানের গতি থমকে যায়। একটু পরে ধরা দেয় আরেকটি বড় শিকার। নিজের বলে দারুণ রিফ্লেক্স ক্যাচ নিয়ে তাইজুল ফেরান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে। প্রথম ইনিংস ১৯৯ রান করা ব্যাটসম্যান এবার আউট ১৫ বলে শূন্য করে।

ম্যাথিউসের ৯৫ টেস্ট আর ১৭১ ইনিংসের ক্যারিয়ারে এটি মাত্র তৃতীয় শূন্য। প্রথমটি ছিল ২০১২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে, পরেরটি ২০১৭ সালে ভারতের বিপক্ষে। একশর বেশি ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে কম শূন্য তারই।

এই দুজনের বিদায়ে শ্রীলঙ্কার রান হয়ে যায় ৪ উইকেটে ১১০। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে তারা তখন এগিয়ে কেবল ৪২ রানে। বাংলাদেশের সম্ভাবনা সবচেয়ে উজ্জ্বল তখনই। কিন্তু দিমুথ করুনারতেœ ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা নামতে দেননি ধস। অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের দৃঢ়তায় লাঞ্চের আগে আর উইকেট হারায়নি শ্রীলঙ্কা।
লাঞ্চের পর ৫২ রান করা করুনারতেœকে থামান তাইজুল। মিড উইকেটে ডাইভিং ক্যাচ নেন মুমিনুল হক। একটু পর সাকিব যখন ফেরালেন থিতু হওয়া ধনাঞ্জয়াকে (৩৩), তখনও সম্ভাবনা ভালোই জিইয়ে আছে বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার লিড একশও হয়নি, উইকেট বাকি স্রেফ ৪টি।

তবে চান্দিমাল ও ডিকভেলার ব্যাটিংয়ে শঙ্কার সময়টুকু পেরিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। আস্তে আস্তে স্পষ্ট হতে থাকে ম্যাচের ভাগ্য। এরপর স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার স্বার্থে খেলে যাওয়া।

সহজাত ব্যাটিংয়ে দারুণ কিছু শট খেলে ডিকভেলা পেরিয়ে যান ফিফটি। এই টেস্টের আগে ৪৭ টেস্ট খেলেও সেঞ্চুরি না পাওয়া কিপার-ব্যাটসম্যানের সামনে এবার যথেষ্ট সময় ছিল সেঞ্চুরির চেষ্টা করার। তবে দুই দলের জন্য তখন খেলা চালানো অর্থহীন, নিজের অর্জনের জন্য লোভ পেয়ে বসেনি ডিকভেলাকে। প্রায় ১৮ ওভার আগেই তারা মেনে নেন ড্র।

৯৬ বলে ৬৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন ডিকভেলা, চান্দিমাল অপরাজিত থাকেন ১৩৯ বলে ৩৫ রানে।

শূন্য রান করার দিনে প্রথম ইনিংসে ১৯৯ রানের জন্য ম্যান অব দা ম্যাচ ম্যাথিউস।
পরের টেস্ট মিরপুরে, সোমবার থেকে।

শেয়ার