সংস্থার সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা হওয়ায় তোলপাড়
প্রত্যাশা’র নির্বাহী পরিচালক ভিকু হত্যার সাড়ে ৪ বছর পার, শুরু হয়নি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর উপশহরের প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গোলাম কুদ্দুস ভিকু হত্যা মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়নি দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছরেও। মামলার আসামিরা এরইমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়ে প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থা দখল করে ব্যাপক অনিয়ম করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় আসামিদের বিরুদ্ধে দুই বছর আগে চার্জশিট দিলেও নানা জটিলতায় বিচারের অপেক্ষায় পড়ে আছে জুডিসিয়াল আদালতের জিআরও শাখায়।

এদিকে ভিকুর স্ত্রী সংস্থার ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করায় ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আসামিরা। এ মামলা প্রত্যাহারের জন্য আসামিরা বিভিন্ন ভাবে সুপারিশও করছে বলে অভিযোগ বাদী পক্ষের।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, উপশহর সি-ব্লকের বাসিন্দা গোলাম কুদ্দুস ভিকু প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব নিয়ে সুনামের সাথে পরিচালনা করে আসছিলেন। সংস্থার টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে একসময় দ্ব›দ্ব শুরু হয় অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে। টাকার হিসাব চাওয়ায় ভিকুকে ভয়ভীতিও দেখায় তারা। ২০১৭ সালের ২ ডিসেম্বর তিনি উপশহর এ-বøকে সংস্থার অফিসে যান। অফিসের কাজ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসার সামনে পৌঁছালে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তিনজনের নাম উল্লেখসহ অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলার তদন্তকালে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যা ও বোমা হামলার সাথে জড়িত থাকায় চারজনকে অভিযুক্ত ও দু’জনের অব্যাহতি চেয়ে ২০২০ সালের ৩১ মার্চ আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশীদ। অভিযুক্ত আসামিরা হলো যশোর সদরের রাজাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে সংস্থার কর্মকর্তা বাহার, ঘুরুলিয়া গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, শ্যামনগর গ্রামের মৃত ছামেদ বিশ্বাসের ছেলে নজরুল ইসলাম কেরু ও শহরের শংকরপুর মুরগির ফার্ম এলাকার মৃত কিনাই চৌধুরীর ছেলে হাফিজ আল আসাদ কবির।

এ আসামিরা বিভিন্ন সময় গ্রেফতার ও আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যায়। পরে তারা জামিনে মুক্তি পায়। করোনার কারণে ও বিভাজন জটিলতায় মামলাটি বিচারে যায়নি বলে আদালতে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আসামিদের মধ্যে দু’জন আবারও সংস্থায় যোগদান করে বহাল তবিয়তে আছে। তারা নিহতের পরিবারকে সংস্থায় পাত্তা দেয় না। ভিকুর রেখে যাওয়া টাকা সভাপতি এসএম নাজিম উদ্দিন ও হত্যা মামলার আসামি এরিয়া ম্যানেজার বাহার আলী, সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম ও প্রধান হিসাবরক্ষক মাসুদুর রহমান লুটপাট করে নিয়েছেন। ভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে সংস্থার টাকা নয়ছয়ের বিষয়টি জানতে পেরে আদালতে মামলা করা হয়েছে। এ মামলা করায় আসামিরা ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশও করছে আসামিরা।

শেয়ার