মহেশপুরে ওসির দক্ষতায় নিরাপরাধ ব্যক্তির মুক্তি

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহের মহেশপুরে হেরোইন রাখার অপরাধে আজিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয় শুক্রবার রাতে। তার বাজারের ব্যাগে পাওয়া যায় হেরোইন। আজিজুল ইসলাম শ্যামকুড় ইউনিয়নের গুড়দাহ গ্রামের এরশাদ আলীর ছেলে। থানায় নিয়ে এসে হাজতে রাখা হয় আজিজুলকে।

আজিজুলের সাথে কথা বলেন ওসি সেলিম মিয়া। তার (আজিজুল) কান্না ও আচরণে বুঝতে পারেন তিনি মাদকের সাথে জড়িত না। এরপর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালান ওসি সেলিম মিয়া। উদ্ধারকৃত হেরোইন আসল কিনা তা সন্দেহ হলে বিভিন্ন পরীক্ষার পরে প্রমাণ হয় তা হেরোইন না। এতে বিষয়টি পরিস্কার হয় হেরোইনের সাদৃশ্য দিয়ে কেউ নিরাপরাধ ব্যক্তিকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। এরপর শুক্রবার রাতেই মুক্তি দেওয়া হয় আজিজুলকে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, থানার এস আই হাফিজুর রহমানের মোবাইলে আরিফ নাম পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ফোন করে (তদন্তের স্বার্থে ফোন নম্বরটি গোপন রাখা হয়েছে) সংবাদ দেন আজিজুল হেরোইনের ব্যবসা করেন। তার বাড়িতে তল্লাশী করলে হেরোইন পাওয়া যাবে। বিষয়টি মহেশপুর থানার ওসি সেলিম মিয়াকে জানানো হলে তিনি অভিযান চালাতে নির্দেশ দেন। আজিজুলের বাড়ি তল্লাশী করে কোন হেরোইন পাওয়া না গেলে ফোন দেওয়া হয় সংবাদ দাতা আরিফকে। তখন তিনি (আরিফ) বলেন আজিজুলের বাজারের ব্যাগের মধ্যে হেরোইন আছে। তার কথা মিলে গেলে হেরোইনসহ আজিজুলকে থানায় ধরে নিয়ে আসা হয়।
এরপর ওসি সেলিম মিয়ার আটক ব্যক্তির কথা-বার্তায় ও উদ্ধারকৃত হেরোইন দেখে সন্দেহ হয়। পরে প্রমাণিত হয় হেরোইনের মত দেখতে হলেও এটা হেরোইন না। এদিকে আটককৃত ব্যক্তির কথপোকথনে তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারেন কেউ তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। পরে তিনি পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেন।

মুক্তি পাওয়া আজিজুল সাংবাদিকের বলেন, আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিলো। আজ শুধু ওসি স্যারের দক্ষতায় আমি মুক্তি পেলাম। আমার জীবনে আমি এমন কোন পুলিশ কর্তকর্তার কথা শুনিনি। আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। পেপার-পত্রিকায় প্রতি নিয়ত নিরাপরাধ মানুষের সাজা হওয়ায় ঘটনা দেখি। প্রতিটি পুলিশ অফিসার যদি সেলিম স্যারের মত হয় তাহলে আমাদের মত নিরাপরাধ মানুষেরা আর সাজা পাবে না। সাধারণ মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা করবে।

ওসি সেলিম মিয়া বলেন, প্রথমে আটককৃত ব্যক্তির কান্নায় ও কথা-বার্তায় কেমন জানি সন্দে হয়েছিলে। পরে আমি উদ্ধারকৃত হেরোইন পরীক্ষা করে দেখি তা ভুয়া। এরপর উপর মহলের সাথে কথা বলে তাৎক্ষনিক ভাবে তাকে মুক্ত করি। আমি চাই না কোন নিরাপরাধ ব্যক্তি সাজা পাক।

শেয়ার