বেনাপোল বন্দরে আমদানি রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধি

১২ দিনে ১৯ হাজার পাসপোর্ট যাত্রীর ভারতে গমন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ করেনার বিধি নিষেধ উঠে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তর স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দর দিয়ে বেড়েছে পাসপোট যাত্রীদের যাতায়াত। একইসাথে বেড়েছে আমদানি রফতানি বাণিজ্য। গত ১২ দিনে (১ মে থেকে ১২ মে) বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৫৪ হাজার ৪২৮ জন যাতায়াত করেছে। এসব যাত্রীদের মধ্যে ভারতে গেছেন ১৮ হাজার ৫৮৯ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ১৫ হাজার ৫৩৯ জন।

২০২১-২২ অর্থবছরের ৯ মাসে আমদানি হয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ২৯৫ মেট্রিকটন পণ্য আমদানি ও ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮১৫ মেট্রিক টন পণ্য রফতানি হয়েছে। তবে বন্দরে জায়গা সংকট আর যাত্রী সেবার বৈধ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে ভোগাšিত্ম বেড়েছে যেমন বাণিজ্যে তেমনি যাত্রী যাতায়াতেও।

ভারত গামী যাত্রী অনিমেশ হালদার জানান, ভারত ভ্রমণে নানান শর্তের কারণে এতোদিন ভারতে যাওয়া জরম্নরি দরকার হলেও তিনি যেতে পারেননি। তবে এখন সব শর্ত উঠে ভিসা সহজ হওয়ায় ভারতে যাচ্ছেন বেড়াতে। বাংলাদেশে ভোগাšিত্ম কিছুটা কমলেও ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে পুলিশের জনবল কম থাকায় ভোগাšিত্ম বেড়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রোদ, বৃষ্টিতে ভিজতে হচ্ছে। জনবল বৃদ্ধি আর যাত্রী ছাওনি তৈরি করা হলে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।

সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, করোনার কারণে নানান শর্ত মানতে চাহিদা মত পণ্য আমদানি, রফতানি করা সম্ভব হচ্ছিলনা। তবে এখন শর্ত প্রত্যাহারে ঝামেলা কমেছে। কিন্তু বন্দরে জায়গা সংকট আর ক্রেন, ফর্কক্লিপের সমস্যায় পণ্য লোড, আনলোড ব্যাহত হচ্ছে। বেনাপোল আমদানি, রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকার আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার রফতানি বাণিজ্য হয়। এছাড়া চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, গ্রহণ ও ভ্রমন ভিসায় বছরে প্রায় ১৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করে। বাণিজ্য খাতে সরকারের ৬ হাজার কোটি টাকা ও ভ্রমন খাতে প্রায় ১শ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ হয় বেনাপোল বন্দর থেকে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন হলে আমদানি বাণিজ্য ও যাত্রী যাতায়াত সংখ্যা আরও বাড়বে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, আমদানির চাহিদা বাড়ায় বন্দরে পণ্যজট বেড়েছে। জট কমাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রম্নত পণ্য খালাস নিতে পারেন সংশিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাত্রী সেবা বাড়াতে প্যাসেনঞ্জার টার্মিনাল তৈরিতে নতুন জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানন এ বন্দর কর্মকর্তা।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি জানান, গত ০১ মে থেকে ৯ মে পর্যšত্ম ভারতে গেছেন ১৮ হাজার ৫৮৯ জন। ভারত থেকে ফিরেছেন ১৫ হাজার ৫৩৯ জন। যাত্রী সেবা বাড়াতে ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশনে কাউন্টার বৃদ্ধি করা হয়েছে। ক্যানসার ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা কাউন্টারে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে দ্রম্নত যাত্রীরা যাতে পাসপোর্টের কার্যক্রম শেষ করতে পারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।

শেয়ার