কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার ডলফিন বাহিনী

সমাজের কথা ডেস্ক॥ কৃষ্ণ সাগরের নৌ ঘাঁটিকে সাগর তলের হামলা থেকে রক্ষায় রাশিয়া তাদের সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষিত ডলফিন মোতায়েন করেছে বলে ধারণা করছেন মার্কিন বিশ্লেষকরা।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেভাস্তোপল বন্দরের কাছে রুশ নৌঘাঁটি এলাকার স্যাটেলাইট ছবি বিশে¬ষণ করে ইউএস নেভাল ইনস্টিটিউট (ইউএসএনআই) এই ধারণা পেয়েছে।

মার্কিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভবত গত ফেব্র“য়ারিতে ইউক্রেইন যুদ্ধের শুরুতেই ডলফিনের দুটি বহরকে কৃষ্ণসাগরের ওই নৌঘাঁটির এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

গার্ডিয়ান লিখেছে, রাশিয়ায় সামরিক কাজে প্রশিক্ষিত ডলফিনের ব্যবহার বেশ পুরনো। সাধারণত সাগরতলে উদ্ধার অভিযান কিংবা শত্রুপক্ষের ডাইভারদের ঠেকাতে এই ডলফিন বহর ব্যবহার করা হয়।

সেভাস্তোপল কৃষ্ণ সাগরে রুশ নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। ২০১৪ সালে ইউক্রেইনের কাছ থেকে দখল করে নেওয়া ক্রিমিয়ার ঠিক দক্ষিণ অংশের লাগোয়া ওই ঘাঁটিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ জাহাজ নোঙ্গর করা রয়েছে।

ইউএসএনআই এর বিশে¬ষণ বলছে, ঘাঁটিতে নোঙর করা যুদ্ধ জাহাজগুলো ইউক্রেইনের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমার বাইরে। তবে পানির নিচ দিয়েও হামলার শিকার হতে পারে সেগুলো। সে ধরনের হামলার ঝুঁকি এড়াতে ডলফিন মোতায়েন করেছে রাশিয়া।

ইউক্রেইনও এক সময় সেভাস্তোপল বন্দরের কাছে একটি অ্যাকুরিয়ামে ডলফিনকে সামরিক কাজে ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিত। এর শুরুটা হয়েছিল সেই স্নায়ুযুদ্ধের সময়, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেইন ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ।

কেবল রাশিয়া নয়, মার্কিন নৌবাহিনীও ১৯৫৯ সাল থেকে পানির নিচের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য ডলফিন প্রশিক্ষণ চালিয়ে আসছে।

পানির নিচের পরিস্থিতি বোঝার জন্য ডলফিন তাদের ইকোলোকেশন ক্ষমতা ব্যবহার করে, যাকে বলা হয় প্রাকৃতিক সোনার। এই ক্ষমতা দিয়ে ডলফিন পানির নিচে একটি গলফ বল এবং একটি পিংপং বলের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে, প্রশিক্ষত একটি ডলফিন মাইনও চিনতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ডলফিনের পাশাপাশি সি লায়নকেও সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়। এ কাজে তারা অন্তত ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে বলে ধারণা দিয়েছে গার্ডিয়ান।

শেয়ার