দৈনিক সমাজের কথায় সংবাদ প্রকাশের জের
যশোর জেনারেল হাসপাতালে সরঞ্জামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ওষুধ সংকটের অবসান

14

এস হাসমী সাজু ॥ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চারমাস পর সিরিঞ্জ, ক্যাথেটার, জেলি ক্রিম, ইউরিন ও ব্লাডব্যাগসহ বিভিন্ন অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকটের অবসান হয়েছে।

২৮ মার্চ দৈনিক সমাজের কথায় ‘হাসপাতালে সিরিঞ্জ, ক্যাথেটার, জেলি ক্রিম, ইউরিন ও ব্লাড ব্যাগসহ বিভিন্ন অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে’ শিরনামে সংবাদ প্রচার হয়। এরপরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢাকা ইডিসিএল ও ঠিকাদারদের সাথে কথা বলেন। পরে বৃহস্পতিবার ঢাকা ইডিসিএল ও ঠিকাদার হাসপাতালে মালামাল সরবরাহ করলে এ সংকটের অবসান ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ জুলাই থেকে ২০২২ জুন অর্থ বছরে এমএসআর সামগ্রী কেনার জন্য ৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বেশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ আসে।

হাসপাতালের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, এ অর্থ দিয়ে সরকারিভাবে হাসপাতালে ৮৪ প্রকারের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এরমধ্যে ইডিসিএল ৪৪ প্রকার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় অর্থে টেন্ডারের মাধ্যমে অবশিষ্ট ৪০ প্রকার ওষুধ কর্তৃপক্ষ ক্রয় করেন। কিন্তু বর্তমান ইডিসিএলের ৪৪ প্রকার ওষুধ ও রি-এজেন্ট কিনে আনলেও টেন্ডারের মালামাল কেনা হয়নি। এই টেন্ডারের কার্যক্রম শেষ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সময় লেগেছে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত। পরে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মেসার্স শামছুল হক এন্টারপ্রাইজ, বাপ্পি ইন্টারন্যাশনাল এবং মাগুরা জেলার মেসার্স অপরাজিতা ড্রাগকে লিলেন, সার্জিক্যাল, আসবাবপত্র ও ওষুধ সরবরাহের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। কিন্তু এই সকল ঠিকাদার কাজ পেয়ে হাসপাতালের স্টোরকিপার সাইফুল ইসলামের সহযোগিতায় এখনও ওষুধ, সার্জিক্যালসহ বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করেননি। ফলে গত বছর ডিসেম্বর থেকে হাসপাতালে সিরিঞ্জ, ক্যাথেটার, ইউরিন ও ব্লাড ব্যাগসহ বিভিন্ন অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীর স্বজনদের অতিরিক্ত দামে বাইরে বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে ওষুধসহ উল্লেখিত সামগ্রী। অনেকে সামর্থ্য না থাকায় চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকছে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এ সংক্রান্ত সংবাদ দৈনিক সমাজের কথায় প্রকাশ হলে স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে ঢাকা ইডিসিএল ও ঠিকাদার হাসপাতালে বৃহস্পতিবার মালামাল সরবরাহ করেন।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুস সামাদ জানান, হাসপাতালে ওষুধসহ বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ এসেছে। গত তিনদিন সরবরাহকৃত মালামাল পর্যবেক্ষণ করে সোমবার থেকে ওয়ার্ডে ও বহিঃবিভাগে সরবরাহ করা হয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামন বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সিরিঞ্জ, ক্যাথেটার, ইউরিন ও ব্লাডব্যাগসহ বিভিন্ন অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের কোনো সংকট নেই। বৃহস্পতিবার ঢাকা ইডিসিএল ও ঠিকাদার মালামাল সরবরাহ করায় এ সংকটের অবসান হয়েছে।