আশরাফুলের ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ১৪১

40

এক ম্যাচে ভীষণ ধীরগতির একটি ফিফটি, বাকি ৫ ম্যাচ মিলিয়ে দুটি শূন্যসহ ২৪। এই ছিল এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহাম্মদ আশরাফুলের পারফরম্যান্স। ছন্দের লেশমাত্র ছিল না ব্যাটে। ব্যর্থতার বলয় ছিঁড়ে অবশেষে নিজেকে সাফল্যের আলোয় রাঙাতে পারলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। অধিনায়কের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে টানা পাঁচ হারের পর ব্রাদার্স ইউনিয়ন পেল লিগে প্রথম জয়ের স্বাদ।

আশরাফুলের লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের ২২ বছর পূর্ণ হবে এ বছরই। এই পড়ন্ত বেলায় এসে তিনি ছাড়িয়ে গেলেন নিজের আগের সেরা ইনিংস। রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৩৬ রানে হারাল ব্রাদার্স ইউনিয়ন।

বিকেএসপিতে মঙ্গলবার ব্রাদার্স ৩০৯ রান তুলে রূপগঞ্জকে আটকে রাখে ২৭৩ রানে।

ব্রাদার্সের ইনিংস শুরু করতে নেমে পুরো ৫০ ওভার খেলে আশরাফুল করেন ১৬ চার ও ১ ছক্কায় ১৩৯ বলে অপরাজিত ১৪১।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার আগের সেরা ছিল কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের হয়ে ২০১৮ সালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ১২৭।

আশরাফুলের শুরুটা এ দিনও ছিল বেশ মন্থর। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ব্রাদার্স প্রথম ওভারেই ফরহাদ রেজার বলে হারায় অভিজ্ঞ ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেনকে (০)। আশরাফুল ও তিনে নামা মাইশুকুর রহমান এরপর সাবধানী ব্যাটিংয়ের পথ বেছে নেন। ৬ ওভারে রান ছিল ১৬।

আশরাফুল এরপর ফরহাদ রেজার ওভারে চার মারেন দুটি। মাইশুকুর পরপর দুই ওভারে ছক্কা মারেন নাসুম আহমেদ ও ফরহাদ রেজাকে। এরপর আবার সতর্ক ব্যাটিংয়ে জুটি গড়ায় মন দেন দুজন।

ইনিংসের যখন ২৫ ওভার শেষ, মাইশুকুর তখন সবে ফিফটি পূরণ করলেন, আশরাফুল তখনও পঞ্চাশ থেকে খানিকটা দূরে!

মাইশুকুর ফিফটি করেন ৭৮ বলে, আশরাফুল ৭৭ বলে।

ফিফটির পর হাত খোলেন আশরাফুল। শরিফউল্লাহর এক ওভারে মারেন চার ও ছক্কা। বাড়তে থকে রানের গতি। ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে যেতে তার লাগে স্রেফ ৩২ বল। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের একাদশ সেঞ্চুরি পান ১১০ বলে।

মাইশুকুর অবশ্য ফিরে যান এর আগেই। ৯২ বলে ৬৮ করে তার বিদায়ে থামে দ্বিতীয় উইকেটে ১৫০ রানের জুটি।

চারে নেমে মিনহাজুল আবেদিন সাব্বির আউট হন ৩৮ বলে ৩০ রান করে। ব্রাদার্সের সম্ভাব্য স্কোর তখন মনে হচ্ছিল ২৭০-২৮০। সেটিই তিনশ ছাড়িয়ে যায় মূলত চতুরঙ্গা ডি সিলভার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে।

পাঁচে নেমে লঙ্কান অলরাউন্ডার ৪ চার ও ৩ ছক্কায় খেলেন ২৫ বলে ৫১ রানের ইনিংস। শেষ ৬ ওভারে ব্রাদার্স তোলে ৭৫ রান। আশরাফুল শেষ পর্যন্ত আর আউটই হননি।

ব্যাটিং উইকেটে এই রান তাড়া করার মতো শক্তি রূপগঞ্জ টাইগার্সের ছিল। কিন্তু টপ অর্ডারে তারা পায়নি বড় ইনিংস। ওপেনার মিজানুর রহমান ১ রানে আউট হওয়ার পর জাকির হোসেন ও বাবা অপরাজিথ অর্ধশত রানের জুটি গড়েন। কিন্তু দারুণ ফর্মে থাকা দুই ব্যাটসম্যান আউট হন থিতু হয়ে।

ব্রাদার্সের দুই ব্যাটিং নায়ক বল হাতে ফেরান এই দুজনকে। চতুরঙ্গার বাঁহাতি স্পিনে অনেক বাইরের বলে আলসে শটে জাকির আউট হন ৩৩ রানে। আশরাফুল আক্রমণে এসে প্রথম বলেই পান সাফল্য। ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে আলগা ড্রাইভে ফিরতি ক্যাচ দেন ভারতীয় অপরাজিথ (৩৪)।

তবে রূপগঞ্জ সেই ধাক্কা সামলে ওঠে পরের জুটিতে। ঘরোয়া ক্রিকেটের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ফজলে মাহমুদ ও মার্শাল আইয়ুব দারুণ ব্যাটিংয়ে এগিয়ে নেন দলকে। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে দলকে পথে রাখেন দুজন।

৫৭ বলে ফিফটিতে পা রাখেন ফজলে মাহমুদ, ৫১ বলে মার্শাল। খুব একটা ঝুঁকি না নিয়েই বলপ্রতি রান করতে থাকেন দুজন।

৫৪ বলে ৫৮ রান করা মার্শালকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন সাকলাইন সজিব। বাঁহাতি স্পিনারকে ইনসাইড আউট খেলতে গিয়ে ফলো থ্রুতে পা বাইরে চলে যায় মার্শালের। চকিতে স্টাম্প ভেঙে দেন কিপার।

এরপর আর লড়াইয়ে থাকতে পারেনি রূপগঞ্জ। ফরহাদ রেজা, আরিফুল হক, শরিফউল্লাহরা কেউ টিকতে পারেননি।

ফজলে মাহমুদ একটা প্রান্ত থেকে চেষ্টা করে যান। চারটি করে চার ও ছক্কায় লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি করেন ৯৯ বলে। তবে পরের বলেই আউট হয়ে যান। শেষ দিকে নাসুম আহমেদ ১৩ বলে ২২ রান করে ব্যবধান একটু কমান।