যশোরে যৌতুক দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে ৬ লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে স্ত্রীর হাতে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গত ১৮ জানুয়ারি শহরতলীর নতুন খয়েরতলা এলাকায় এই ঘটনার পরে ভুক্তভোগী ফারজানা আক্তার মুন্নি বাদী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। আসামি লিমন পারভেজ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খড়াশুনি গ্রামের মহাসিন আলীর ছেলে।

বাদী ফারজানা আক্তার মুন্নি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালি গ্রামের মাঠপাড়ার ফারুক হোসেনের মেয়ে। বর্তমানে মুন্নি স্বামী সন্তানসহ যশোর শহরতলীর নতুন খয়েরতলায় মিজানুর রহমানের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। তিনি মামলায় বলেছেন, ২০১০ সালের ১৬ জুন তিন লাখ টাকা দেনমোহরে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মুন্নির পিতা স্বর্ণালংকার ও কাপড়সহ সাড়ে ৪ লাখ টাকার মালামাল দেন জামাই লিমন পারভেজকে। দাম্পত্য জীবনে লাবণ্য আক্তার রোজা (৪) নামে একটি মেয়ের জন্ম হয়। কিন্তু সম্প্রতি লিমন পারভেজ চাকরির জন্য ১০ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে স্ত্রীর কাছে দাবি করেন। মেয়ের সুখের কথা ভেবে নিজের বেতন এবং জমি বিক্রি করে জামাইকে ৬ লাখ টাকা দেন মুন্নির পিতা। কিছুদিন ভালভাবে সংসার করার পর আবারো ৫ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করে তার স্বামী। কিন্তু এত টাকা দিকে অস্বীকার করায় মুন্নিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে লিমন পারভেজ। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি সকাল ৭টার দিকে মুন্নি সাংসারিক কাজ কর্ম করছিলেন। এসময় লিমন পারভেজ যৌতুকের ৫ লাখ টাকার জন্য স্ত্রী মুন্নিকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। জীবন বাঁচাতে হাত দিয়ে ঠেকানোর সময় মুন্নির হাতে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এরপরে মুন্নিকে ঘরের বাইরে রেখে তালা দিয়ে লিমন পারভেজ বাসা থেকে চলে যাওয়ার সময় মুন্নির চিৎকারে প্রতিবেশি ভাড়াটিয়া আমিনুল ইসলামের স্ত্রী আশা খাতুনসহ কয়েকজন লোক এসে মুন্নিকে রক্ষা করে। পরে সংবাদ পেয়ে মুন্নির পিতা-মাতা বাড়ি থেকে এসে মুন্নিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে গত মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় এই মামলা করেছেন মুন্নি।

শেয়ার