আইএসের হামলায় তুমুল সংঘর্ষে রণক্ষেত্র সিরিয়া

সমাজের কথা ডেস্ক॥ আবার উত্তপ্ত সিরিয়া। জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও কুর্দি বাহিনীর তীব্র লড়াই চলছে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। হাসাকা নগরীর কুর্দি পরিচালিত কারাগারে বন্দি সদস্যদের মুক্ত করতে সেখানে হামলে পড়েছে আইএস।

তাদের ঠেকাতে আন্তর্জাতিক জোটের সহায়তায় চলছে কুর্দিদের অভিযান। তুমুল সংঘাতে তিনদিনে প্রাণ হারিয়েছে ১০০ জনের বেশি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সহায়তায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী হাসাকায় গত বৃহস্পতিবার থেকে লড়াই চালাচ্ছে।

রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল। হাসাকায় যুদ্ধের ময়দানে শতাধিক আইএস সদস্য। জঙ্গিদের ঠেকাতে আরও সেনা, ট্যাংক, অস্ত্রশস্ত্র জড়ো করেছে কুর্দি বাহিনী। থেমে থেমে চলছে গোলাগুলি।

দীর্ঘদিন পর হঠাৎই আবার বড় ধরনের হামলা নিয়ে আলোচনায় আইএস। বৃহস্পতিবার রাতে গোয়েরান কারাগরে হামলা চালায় জঙ্গিরা। বিবিসি জানায়, আইএস এর কয়েকজন নেতাসহ গোষ্ঠীটির ৩,৫০০ সদস্য বন্দি আছে ওই কারাগারে।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, বাইরে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা চালিয়েছে আইএস সদস্যরা। সংঘর্ষের সময় পালিয়ে যায় অনেক বন্দি। অবশ্য কয়েকশ বন্দিকে আবার আটকও করা হয় বলে জানিয়েছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।

প্রায় তিন বছর আগে সিরিয়ায় আইএস এর পতনের পর এটিই সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা।

কুর্দি-নেতৃত্বাধীন এসডিএফ বাহিনীর মিডিয়া সেন্টার প্রধান জানান, হামলাকারীর সংখ্যা ৮০ থেকে ১০০, সর্বোচ্চ ১১০ জন ছিল। কুর্দি বাহিনী চারপাশে মোতায়েন রয়েছে। জঙ্গিরা আশপাশের ভবনে লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই থেমে থেমে যুদ্ধ হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে।

‘দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি’ জানিয়েছে, “হামলার শুরু থেকে এ পর্যন্ত কারাগারের ভেতরে-বাইরে অভ্যন্তরীর নিরপত্তা বাহিনী, কারারক্ষী, সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর সদস্যরাসহ অন্তত ৩৯ জন কুর্দি যোদ্ধা এবং ৭৭ জন আইএস সদস্য মারা পড়েছে।”

আমাক বার্তা সংস্থার মাধ্যমে এক বিবৃতিতে আইএস জানায়, হামলার উদ্দেশ্য বন্দিদের মুক্ত করা। ২২ জানুয়ারিতে একটি ভিডিওয় আইএস কারাগার থেকে তাদের বহু সদস্যকে মুক্ত করার দাবিও করেছে। ওই ভিডিওতে আইএস কে কয়েকজনকে জিম্মি করে রাখতেও দেখা যায়।

সিরিয়ার ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাহিনীর সহায়তায় ঘিরে রাখা হয়েছে কারাগারটি। বিমান হামলা চালানোর খবরও নিশ্চিত করে জানিয়েছে পেণ্টাগন। কুর্দিদের দাবি, কারাগারের ছোট্ট একটি অংশ ছাড়া আশপাশের পুরো অঞ্চলই তাদের নিয়ন্ত্রণে।

এসডিএফ এর মুখপাত্র ইন্তিকাম হাসাকেক বলেছেন, বর্তমানে কেবল কারাগারেই আইএস সদস্যদের অস্তিত্ব আছে। তাদের ঘিরে রাখা হয়েছে। জঙ্গিদের কাছে অস্ত্রও আছে। তবে সেগুলো দিয়ে তারা কিছু করতে পারবে না। একসময় তাদের গুলি শেষ হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

শেয়ার