৯০ তে বাধা হয়নি ভোটের আনন্দ

Exif_JPEG_420

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ৯০ তে বাধা হতে পারেনি ভোটের আনন্দ। একা হাঁটাচলা করতে পারেন না বলে ছেলে জাহিদুর সরদারের হাতে ভর করে আসেন ভোটকেন্দ্রে। অসুস্থতা দেখে দীর্ঘ লাইনে থাকা নারী ভোটারেরা তাকে সুযোগ করে দেন। ছেলের হাত ধরে বুথে ঢুকে ইভিএমের বোতামে চাপ দিয়ে পছন্দের প্রার্থীর মার্কায় ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসেন। দুপুর ১২ টার দিকে ছেলের হাত ধরে আবার বাড়ি যাওয়ার পথে ঝিকরগাছা বিএম হাই স্কুলে কেন্দ্রে কথা হয় লাইলী বেগম (৯০)। জীবনভর সিল মেরে ভোট দিলেও শেষ জীবন এসে ডিজিটাল দেশে ডিজিটাল পদ্ধতি ইভিএমে ভোট দিয়ে খুশি তিনি। তিনি সমাজের কথাকে বলেন, জীবনে আর ভোট দিতে পারবো কিনা, তাই ছেলের হাত ধরে পছন্দের প্রার্থীকে আমার জীবনের শেষ ভোটডা দিয়ে গেলাম। এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ ভোট।

এই বৃদ্ধার ছেলে জাহিদুল সরদার বলেন, আমরা ৬ ভাই বোন। ১০ বছর আগে বাবা মারা গেছে। ভাই বোনের মধ্যেও ২ জন মারা গেছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর ঝিকরগাছা পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে। সেই বার ২০০১ সালের ২ এপ্রিল মা বাবা এক সাথে এসে ভোট দিয়েছিলেন। এবার বাবা নেই। মাও খুব অসুস্থ। তাই আজকে মাকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে এসেছি। মায়ের ৯০ বয়স হয়ে গেছে। কতদিন বাঁচেন আল্লাহ জানেন। তাই ভোট দিতে নিয়ে এসেছি।

দীর্ঘ ২১ বছর পর রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচন। দীর্ঘদিন পর নির্বাচনকে ঘিরে পৌরসভা জুড়েই উৎসবের আমেজ নবীন-প্রবীণ ভোটারদের মাঝে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬৬ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৪টি ভোটকেন্দ্রের ৮৬টি বুথে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ২১ বছর পর ভোট উৎসবে শামিলে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট দিয়েছেন এখানকার ভোটাররা। প্রথমবার ইভিএমে ভোট দিতে পেরে খুশি পৌরবাসী।

প্রসঙ্গত, ৯ দশমিক ৪৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ঝিকরগাছা পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০১ সালের ২ এপ্রিল। ওই নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল। সীমানা জটিলতা কাটিয়ে ২১ বছর পরে পুরাতন সীমানায় নির্বাচনের জন্য গত ৩০ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার