২১ বছর পর উৎসব মুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ

ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দীর্ঘ ২১ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভা নির্বাচন। দীর্ঘ বছর পর নির্বাচনকে ঘিরে পৌরসভা জুড়েই ছিলো উৎসবের আমেজ। নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬৬ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে ফের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল। তিনি ১২শ’ ৪৯ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট দিয়েছেন এখানকার ভোটাররা। প্রথমবার ইভিএমে ভোট দিতে পেরে খুশি তারা।

পৌরসভার একাধিক ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখর পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯ টায় ঝিকরগাছা বিএম হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটাররা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এ কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল বেশি। দীর্ঘদিন পর ও ইভিএমে ভোট হওয়ায় তরুণ ভোটারদের মধ্যেও বেশ উৎসাহ দেখা গেছে। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ষাটোর্ধ্ব সোলায়মান গাজী এ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন। দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পেরে তিনি খুশি। তিনি জানান, প্রথমে ইভিএমে ভোট দিতে কিছুটা অস্বত্বি লাগছিলো। ভোট দেওয়ার পরে ভালো লাগছে। সাগর হোসেন নামে এক নবীন ভোটার বলেন, তার যখন ৭ বছর বয়স ছিল তখন এই পৌর সভায় সর্বশেষ নির্বাচন হয়। ২০২০ সালে তিনি ভোটার হন। এবারই প্রথমবারের মতো ভোট দিলেন। ভোট দিতে কোনো অসুবিধা হয়নি। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এস এম শাহজাহান সিরাজ বলেন, দীর্ঘদিন পর ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। সকাল থেকেই ভোটাররা সারিতে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিচ্ছে। সকাল থেকেই পুরুষদের চেয়ে নারীদের উপস্থিতি বেশি। তবে, ইভিএমে ভোট গ্রহণে বয়স্কদের কিছুটা দেরি হলেও তরুণদের সমস্যা হয়নি। এই কেন্দ্রে ২৯৪০ ভোটারের মধ্যে ভোট গ্রহণের দেড় ঘণ্টায় ৫শ’ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

শহরের কৃষ্ণনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়। এই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা সাজেদা বেগম জানান, আমার বিয়ে যে বার অর্থাৎ ২০০২ সালে ভোট হয়েছিলো। সেবার ভোটার না হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি তিনি। দীর্ঘদিন পর এবার ভোট দিতে এসেছি। ভোট দিতে পেরে আনন্দ লাগছে। ভোট মানেই আমাদের এলাকায় একপ্রকার উৎসব। এ উৎসবের সঙ্গে আমরা ছোটবেলা থেকেই পরিচিত। প্রিজাইডিং অফিসার সাইফুজামান বলেন, এই কেন্দ্রে ১ হাজার ৬৪৮ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বেশ ভালো। তাই ভোটকে কেন্দ্র করে এক অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই পৌরসভায় সীমানা সংক্রান্ত নানা জটিলতায় ২১ বছর ধরে পৌর নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি ভোটাররা।

কৃর্তিপুর খাদেমুন ইনসান কেন্দ্রে তৈয়ব নামের ভোটার জানান, ব্যালটে ভোট দেওয়ার থেকে ইভিএমে ভোট দেওয়ার মজা আলাদা, খুব তাড়াতাড়ি করে আমরা ভোট দিতে পেরেছি। রেশমা নামে অপর এক ভোটার জানান, আমাদের ভোট দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না, কোনো বাধা ছাড়াই আমরা কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারতেছি। ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল হক জানান, দীর্ঘ ২১ বছর পর এই নির্বাচন হচ্ছে। এজন্য সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিলো। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

শেয়ার