৬ মাসেও চালু হয়নি আরটিপিআর ল্যাব

যশোর মেডিকেল কলেজের স্টোরে পড়ে আছে মেশিন

তবিবর রহমান: করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজে ৬ মাস আগে আরটি পিসিআর মেশিন এলেও ল্যাব স্থাপন করা যায়নি। বায়োসেপ্টি কেবিনেট, লুমিনিয়া ফ্লো মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ না পাওয়ায় ল্যাব চালু করে পরীক্ষা শুরু করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সূত্র মতে, ২০২০ সালে এপ্রিলে জেলায় করোনা ভাইরাস দেখা দেয়। এ সময় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরটিপিসির ল্যাবে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়। শুধু যশোর নয়; আশপাশের জেলা থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য এ ল্যাবে পাঠানো হয়। ফলে নমুনা পরীক্ষায় হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের।

এ অবস্থায় ২০২০ সালের জুলাই মাসে যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ মেডিকেল কলেজের জন্য একটি আরটি পিসিআর মেশিন চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে যশোর করোনা প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকেও আরটিপিসিআর মেশিন বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়। এক পর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যশোরে জেলার জন্য একটি আরটি পিসিআর মেশিন যশোর মেডিকেল কলেজে বরাদ্দ দেয়। গত বছর ৮ জুলাই আরটি পিসিআর মেশিন যশোর মেডিকেল কলেজে এসে পৌছায়। কিন্তু এখনও এই মেশিনের জন্য একটি বায়োসেপ্টি কেবিনেট ও লুমিনিয়া ফ্লো মেশিনসহ বেশ কিছু উপকরণ ও যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে ল্যাব চালু করা যাচ্ছে না।

যশোরের সিভিল সার্জন (সদ্য বিদায়ী) ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে করোনার অতিমাত্রায় সংক্রমণ ওমিক্রনে আক্রান্ত ৩ ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। যশোরে প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় আগের চেয়ে সেবার প্রস্তুতি বাড়তে হবে। সেখানে হাসপাতালের বেড ও আইসিইউ প্রস্তুতের সাথে মেডিকেল কলেজের আরটিপিসিআর ল্যাবটি চালু করার বিকল্প নেই। গেল ১৯ ডিসেম্বর জেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভাও দ্রুত ল্যাবটি চালু করে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উপর আলোচনা হয়। এরপর করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা থেকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আরটিপিসিআর ল্যাব চালুর জন্য মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মহিদুর রহমান বলেন, ৬ মাস আগে মেশিন এলেও বায়োসেপ্টি কেবিনেট ও লুমিনিয়া ফ্লো মেশিনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়া হয়নি। এগুলো পেতে যশোরের বাসিন্দা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু আজো পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, সর্বশেষ তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে যোগাযোগ করেন। তাকে জানানো হয় বায়োসেপ্টি কেবিনেট আমদানি করা হচ্ছে। জানুয়ারিতে বন্দরে এসে পৌছানোর কথা। উর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হাতে পেলে যশোরের জন্য বরাদ্দ দেবেন বলে আশ্বাস্ত করেছেন। এ হিসেবে দ্রুত আরটিপিআর ল্যাব চালু করা সম্ভব না বলে অধ্যক্ষ মনে করছেন। ফলে মেডিকেল কলেজের ল্যাবে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করাতে আরো অপেক্ষা বাড়বে যশোরবাসীর।

 

শেয়ার